প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি থেকে যতটা শক্তি পাওয়া যায়, হৃদরোগের ঝুঁকি তা থেকে অনেক বেশি বাড়ে। গত সোমবার প্রকাশিত গবেষণাটিতে স্বাস্থ্যের ওপর চিনির ক্ষতিকর প্রভাবের আরও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। বিএমসি মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি বলছে, চিনিযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
যুক্তরাজ্যের ৩৭ থেকে ৭৩ বছর বয়সী ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের খাদ্যাভ্যাসের তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়েছে। এসব মানুষের স্বাস্থ্যের তথ্য নয় বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
ফলাফলে দেখা গেছে, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে যদি ৫ শতাংশ চিনি গ্রহণ বেড়ে যায় তাহলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৬ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ১০ শতাংশ বেড়ে যায়।
গবেষণাটির অন্যতম লেখক কোডি ওয়াটলিং অক্সফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা সবচেয়ে বেশি যে ধরনের চিনি গ্রহণ করেছেন তা হচ্ছে প্রক্রিয়াকৃত এবং কনফেকশনারি সামগ্রীতে থাকা চিনি। এ ছাড়া ফলের রস, চিনিযুক্ত বেভারেজ এবং মিষ্টির মাধ্যমে চিনি গ্রহণেরও পরিমাণ বেশি বলে জানান তিনি।
তবে ফল ও সবজিতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এই গবেষণায় বাড়তি চিনি বলে বিবেচনা করা হয়নি। আর এই চিনি গবেষণার বিশ্লেষণ থেকে বাদ রাখা হয়েছে।
কোডি ওয়াটলিং ও তার সহকর্মীরা ব্রিটিশ বায়োব্যাংকের তথ্যের ওপর নির্ভর করেছেন। এই ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জমা রয়েছে। এর মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাসের তথ্যও রয়েছে।
গবেষকরা দেখেছেন, যাদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের সবচেয়ে বেশি তারা প্রতিদিন প্রায় ৯৫ গ্রাম প্রক্রিয়াজাতকৃত চিনি গ্রহণ করেছেন। এই পরিমাণ তাদের প্রতিদিন গ্রহণ করা শক্তির ১৮ শতাংশের সমান। আর যুক্তরাষ্ট্রের গাইডলাইন বলছে, প্রতিদিন গ্রহণ করা মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের বেশি চিনি হওয়া উচিত নয়।
হার্ভার্ড বিশ^বিদ্যালয়ের মহামারীবিদ্যা ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওয়াল্টার উয়িলেট বলেন, চিনিযুক্ত বেভারেজ এড়িয়ে চলা সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে ছোট এক গ্লাস কমলার জুস গ্রহণের কিছু স্বাস্থ্য সুবিধা রয়েছে।
অক্সফোর্ডের গবেষকরা দেখেছেন, চিনির পরিবর্তে আঁশ গ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। প্রতিদিন পাঁচ গ্রাম আঁশ গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি চার শতাংশ কমে যায়।


