প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
বড় ভাইয়ের নির্দেশেই ঘটে জোড়া খুনের ঘটনা। খুনে অংশ নেয়াদের বয়স ১৬ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। কথিত বড় ভাই ইলিয়াছ মিঠুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত কিশোর ও তরুণ।
চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে জোড়া খুনের ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে এমনই তথ্য। মঙ্গলবার হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন গ্রেফতার রবিউল ইসলাম।
জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় সিরাজুল ইসলাম শিহাব ও রবিউল ইসলামের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং মারামারি হয়। ঐ ঘটনা মীমাংসার কথা বলে রাতেই দুইপক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন কথিত বড় ভাই ইলিয়াছ মিঠু। বৈঠকে ইলিয়াছ মিঠুর সামনেই বেধড়ক পিটুনি এবং ছুরিকাঘাত করে মাসুম ও সজীবকে খুন করা হয়।
নিহত মাসুমের ভাই মনির হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বান্ধবীকে নিয়ে সাগরিকা জহুর আহমদ স্টেডিয়াম এলাকায় ঘুরতে যান সিরাজুল ইসলাম শিহাব। ঐ সময় শিহাবকে উদ্দেশ্য করে বন্ধু রবিউল বলেন- ঐ মেয়ের সঙ্গে তোকে মানায়নি। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারামারিও হয়।
ঘটনার পর মীমাংসার কথা বলে রাত আটটার দিকে উভয়পক্ষকে ডেকে নেন কথিত বড় ভাই ইলিয়াছ মিঠু। সেখানে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মিঠুর নির্দেশে মাসুম ও সজীবকে বেধড়ক পিটুনি এবং ছুরিকাঘাত করেন রবিউল ও তার সহযোগীরা। এরপর সবাই পালিয়ে যান। পরে দুইজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পাহাড়তলী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মূলহোতাসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোড়া খুনের এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রবিউল মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় বিটাক মোড় এলাকায় খুনের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে পাহাড়তলী থানায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত মাসুমের ভাই। এরপরই কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতা ইলিয়াছ মিঠুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকি সাতজনকে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ইলিয়াছ মিঠু বাদে গ্রেফতার অন্যরা হলেন- কার্তিক বণিক ওরফে আবদুর রহিম, বিপ্লব মল্লিক ওরফে মোহাম্মদ বিপ্লব, রবিউল ইসলাম, রায়হান উদ্দিন, মো. শামীম, সাগর দাশ ও রবিউল হাসান হৃদয়


