Homeবিনোদনপ্রথম স্বামীর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন পরীমণি

প্রথম স্বামীর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন পরীমণি

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

ঢাকা-ভাঙ্গা মহাসড়কের মাদারীপুরের শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় চিত্রনায়িকা পরীমণির প্রথম স্বামী ইসমাইল হোসেন জমাদ্দার নিহত হন।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার পাচ্চর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে রাতে জানাজা শেষে নিজ বাড়ি ছোট শৌলা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। খবরটিতে গতকাল শনিবার সয়লাব ছিল সামাজিক মাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ পরীমণি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে পরীমণি বলেন, ‘কারও মৃত্যু তো হাসি-তামাশার বিষয় নয়। ইসমাইলের মৃত্যু নিয়ে যে যেভাবে পারছেন, খবর প্রকাশ করেছেন। উৎসব উৎসব ভাব মনে হচ্ছে। এটা সত্যিই কষ্টদায়ক। এমনটা মোটেও আশা করিনি।’

এদিকে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই নীরব পরী। এর আগে দুজনকে জড়িয়ে সংবাদ হলেও মুখ খোলেননি। এবার মুখ খুললেও সম্পর্ক নিয়ে রহস্য জমিয়ে রাখলেন।

তার কথায়, ‘ইসমাইল হোসেন জনি আমাদের আত্মীয়। আমার খালাতো ভাই। আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। বয়সে যদিও আমার চেয়ে ৫-৬ বছরের বড়, তারপরও আমাদের সম্পর্কটা ছিল খুবই চমৎকার।’

পরীমণি বললেন, এবার বাড়িতে আসার পরই আমার মা (খালাকে মা বলে ডাকেন পরীমনি) বললেন, “ও (ইসমাইল) তো বাইক অ্যাক্সিডেন্ট করছে।” আমি বললাম, “কী! ”পরে বললেন, “ও তো মারা গেছে!” এলাম নানুভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে, এসে শুনি ইসমাইলের মৃত্যুর খবর! এটা মেনে নেওয়া যে কতটা কষ্টের, বলে বোঝাতে পারব না।’

ইসমাইল যখন চিরনিদ্রায় শায়িত পরীমণি তখন তার নানার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল। কিন্তু মরদেহের মুখ দেখতে পারেন না বলে যাননি। এরকম উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি সাধারণত মৃত মানুষের মুখ দেখতে পারি না। এই জীবনে একমাত্র নানুভাইয়ের মরা মুখটাই শুধু দেখতে পেরেছি। আর কারোটা দেখা সম্ভব হয়নি। ইসমাইলেরও দেখা সম্ভব হয়নি। কবর জিয়ারত করেছি। সেই কবরস্থানে পাশাপাশি আমাদের পরিবারেরই অনেকগুলো কবর। সবচেয়ে নতুন কবর, ইসমাইলের। ওর বাবাসহ আমরা কবর জিয়ারতে গেছি। সবকিছু ছাপিয়ে সে তো আমার আত্মীয়। তাই তার সঙ্গে আমার সম্পর্কও তো সব সময়ের।’

সবশেষে পরীমণি বলেন, ‘আমাদের সবারই তো সমাজ আছে, সংসার আছে, পরিবার আছে, আছে স্ত্রী-সন্তানও। কিন্তু একটা মানুষের মৃত্যুর পর যেভাবে আমাকে জড়িয়ে খবর প্রকাশ হচ্ছে, এতে আমরা কি এভাবে সেই মৃত মানুষকে সম্মান জানাচ্ছি? এভাবে অসম্মান করার অধিকার কি আমরা কেউ রাখি? তার নিজের কি কোনো পরিচয় নেই। আর আমার সঙ্গে কোনো সম্পর্কের সূত্র খুঁজেও আপনারা যদি কিছু লিখতেও চান, তা–ও তো সেটা এখন লিখতে পারেন না। তা–ও এভাবে! আমরা কেন একজন মৃত মানুষকে নিয়ে এভাবে লিখছি! আমি আর নিতে পারছি না এসব। আমিও তো মানুষ, আমারও আবেগ, অনুভূতি, ভালো লাগা, কষ্ট লাগা, দুঃখবোধ আছে।’

জানা যায়, শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণির সঙ্গে সৌরভ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে। বিয়ের পর স্ত্রী পরীমণিকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। ভর্তি করিয়ে দেন একটি কলেজে। কিন্তু সে সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তবে এই বিয়ে প্রসঙ্গে পরীমণি কখনও মুখ খোলেননি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়