বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেকার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ টিকে থাকার জন্য জামায়াতের কৌশল অনুসরণ করছে?

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ টিকে থাকার জন্য জামায়াতের কৌশল অনুসরণ করছে?

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এসবের মধ্যেও বেশ কিছুদিন ধরে নিয়মিতভাবে মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে দলটির সমর্থকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যেভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে এসেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পদ্ধতিগতভাবে সে একই কৌশলে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। সূত্র বণিক বার্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজপথে শক্ত অবস্থান জানান দিতে নিয়মিত মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়গুলো গোপনীয়ভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথায় কখন কর্মসূচিগুলো করা হবে সেটি নেতাকর্মীদের স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জানানো হচ্ছে। এছাড়া দেশব্যাপী দলীয় নেতাকর্মীদের ডাটাবেজ তৈরি ও সে অনুযায়ী তাদের সক্রিয় করার কার্যক্রম শুরু করেছে দলটি।

দেশের ভেতরে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা এটি সমন্বয় করছেন। তবে এসব নির্দেশনা আসছে দেশের বাইরে থেকে।

রাজধানীর শ্যামলীর শিশু মেলার সামনে এবং মতিঝিলে গতকাল ঝটিকা মিছিল করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর আগে গত শনিবার আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে থেকে বের করে মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে। গত শুক্রবার বাংলামোটর ও গুলশান এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেন দলটির নেতাকর্মীরা।

গত বৃহস্পতিবারও মিরপুর ও দারুস সালাম এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে। গত এক মাসে রাজধানী ঢাকায় বেশ কয়েকটি বড় মিছিলও করেছে দলটি। এসব মিছিলে অংশ নেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক দায়িত্বশীল নেতা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বৈরী পরিস্থিতির কারণে ঝটিকা আকারে আমাদের মিছিলগুলো করতে হচ্ছে। আমরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করছি। যতটুকু পারা যায় নিরাপদ থেকে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল প্রসঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, ‘সরকারের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগ নিধন করা। তারা সে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আদালত চত্বরে মব সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। এমন তীব্র প্রতিকূল অবস্থায় আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে হচ্ছে। সারা দেশে কয়েক কোটি নেতাকর্মী ও সমর্থককে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বর্তমান সময়ের রাজনীতির সঙ্গে অন্য কোনো দল বা সময়কে মেলানো যাবে না।’

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দমন-পীড়নের মুখে জামায়াতে ইসলামীও নিজেদের সংগঠন টিকিয়ে রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছিল। তাদের অন্যতম কৌশল ছিল ঝটিকা মিছিলে হঠাৎ করে কয়েক ডজন বা কয়েকশ কর্মী একটি স্থানে জড়ো হয়ে সংক্ষিপ্ত মিছিল বের করা। স্লোগান দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সটকে পড়ত তারা। এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে ধরপাকড় করাও কঠিন হয়ে পড়ত। এছাড়া দলটি সংগঠনের ভেতরে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, যাতে বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা হতো। জামায়াতও তখন ডাটাবেজভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামোয় জোর দিয়েছিল। কোথায় কোন স্তরের নেতা বা কর্মী আছেন, কাকে কোন পরিস্থিতিতে সক্রিয় করা যাবে—এসব কৌশল ব্যবহার করে দলটি মাঠে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যায়। রাজনীতিসংশ্লিষ্টদের মতে, আওয়ামী লীগও এখন অনেকটা একইভাবে ঝটিকা মিছিল, গোপন নির্দেশনা ও ছোট পরিসরে সক্রিয়তা থাকার কৌশল অবলম্বন করছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা ষড়যন্ত্র করছে, জনগণ সেটা মেনে নেবে না। এটা দেখার দায়িত্ব সরকারের।’ বিগত সময়ে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে গুপ্ত রাজনীতি করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা অভিযোগ করেন তারাই ব্যাখ্যাটা দিতে পারবেন। আমরা এটা বলিনি।’

রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ পদ্ধতিগতভাবে জামায়াতের পূর্ববর্তী কৌশল অবলম্বন করছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা  বলেন, ‘জামায়াত বিগত সময়ে তার টিকে থাকার রাজনীতি করেছে। এখন আওয়ামী লীগ তার টিকে থাকার রাজনীতি করছে। তবে আওয়ামী লীগ সম্প্রতি যে মিছিলগুলো করেছে সেগুলো বেশ বড়। সেটি গোপন বা গুপ্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি বলে মনে হয়নি।’

আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল কোনো বিদেশী শক্তির ইন্ধনে হতে পারে বলে ধারণা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ।  তিনি বলেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগ সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এখানে নিজের স্বতন্ত্র কোনো কৌশল থাকতে পারে, আবার বিদেশীদের ইন্ধন থাকতে পারে। তবে তারা জামায়াতের কৌশল অবলম্বন করছে নাকি নিজেদের কৌশলে এগোচ্ছে—এটা এখনই বলা যাবে না। তারা যে সক্রিয় হচ্ছে এটা তো দৃশ্যমান।’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়