বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাআজ শুভ মহালয়া

আজ শুভ মহালয়া

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই পূজার প্রারম্ভে দেবীপক্ষের সূচনায় ‘মহালয়া’ নামক আচারে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উলুধ্বনি দিয়ে, শঙ্খ বাজিয়ে এবং প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে মাতৃরূপিণী দেবী দুর্গাকে আবাহন করা হয়।

আজ রবিবার সেই শুভ মহালয়া; আজ দেবী দুর্গার আবির্ভাবের দিন। আজ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পিতৃপক্ষ শেষে শুরু হবে দেবীপক্ষ। চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা। যে কারণে চন্ডীপাঠ ছাড়াও বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্ম মতেÑ শারদীয় দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো এই মহালয়া। মহালয়া মানেই আর মাত্র ছয় দিনের প্রতীক্ষা শেষে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজার এই সূচনার দিনটি সারা দেশে বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে ভোর থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দিরে মন্দিরে থাকবে বিশেষ আয়োজন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গা সমস্ত অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক রূপে পূজিত। পুরাণে আছে, দুর্গোৎসবের তিনটি পর্বÑ মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা। মহামায়া অসীম শক্তির উৎস। পুরাণ মতে, মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী, কোনো মানুষ বা দেবতা কখনও মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। ফলত অসীম হ্মমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতারিত করে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব ত্রয়ী সন্মিলিতভাবে ‘মহামায়া’র রূপে অমোঘ নারীশক্তি সৃষ্টি করেন এবং দেবতাদের দশটি অস্ত্রে সুসজ্জিত দেবী দুর্গা নয় দিনব্যাপী যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করেন।

মহালয়ার আরেকটি দিক হচ্ছেÑ এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণের পাশাপাশি আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল-তিল-অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণও করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে, এই দিনে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবীতে) আসেন। প্রয়াত আত্মার যে সমাবেশ হয় তাকে মহালয় বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া। পিতৃপক্ষেরও শেষ দিন এটি।

পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তকালে তিনি এই পূজার আয়োজন করায় একে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শরৎকালে শ্রী রামচন্দ্র দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। এই পূজাকে অকালবোধনও বলা হয়।

বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার ২৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই আয়োজন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়