Saturday, June 27, 2026
spot_img
Homeমুল পাতাইরান এতগুলো দেশে হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প

ইরান এতগুলো দেশে হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর প্রতিশোধমূলক আঘাত আসতে পারে, এমন সতর্কবার্তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগেই দেওয়া হয়েছিল। অথচ গতকাল সোমবার তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের প্রতিক্রিয়া তাঁর কাছে ‘বিস্ময়কর’ ছিল এবং তিনি এতে ‘হতবাক।’ যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এবং মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়নি যে ইরান ‘নিশ্চিত’ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে ‘সম্ভাব্য ফলাফলের তালিকায় এটি অবশ্যই ছিল।’

আজ মঙ্গলবার ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর এ ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার কথা ট্রাম্প অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করলেও সূত্রগুলো জানায়, সংঘাত শুরুর আগেই তাঁকে এ ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে। এতে অন্তত ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যার বেশির ভাগই ইরানে এবং যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যত বন্ধ। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় চালু করতে ট্রাম্পের অনুরোধে মিত্ররা সাড়া না দেওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার ভোরেও দুই পক্ষের হামলা থামেনি। রাতভর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান, যা প্রমাণ করে যে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পরও তেহরানের দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা তেহরানজুড়ে ‘ইরানি শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে বৈরুতের হিজবুল্লাহ অবস্থানেও আঘাত হানা হয়েছে। এর এক দিন আগে ইসরায়েল জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে অন্তত আরও তিন সপ্তাহ যুদ্ধ চালানোর বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে।

আজ ভোরে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে রকেট ও অন্তত পাঁচটি ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র জানায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সবচেয়ে তীব্র হামলা বলে তারা উল্লেখ করে। দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নেই।

আরব আমিরাতে ইরানি হামলার ফলে সাময়িকভাবে আকাশপথ বন্ধ রাখতে হয় এবং দ্বিতীয় দিনের মতো ফুজেইরাতে একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন আঘাত হানে। ফুজেইরা আমিরাতি তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিহত করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবুধাবির বানি ইয়াস এলাকায় পড়ে এক পাকিস্তানি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ড্রোন হামলায় আবুধাবির শাহ গ্যাসক্ষেত্রে আগুন ধরে যায়।

ট্রাম্প বলেন, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলা তাঁকে বিস্মিত করেছে। সোমবার তিনি বলেন, ‘তারা (ইরান) মধ্যপ্রাচ্যের এতগুলো দেশের ওপর হামলা চালাবে বলে কথা ছিল না। কেউ এটা আশা করেনি। আমরা হতবাক।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত দুই সূত্র জানায়, ইরানে হামলা করলে উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর প্রতিশোধ আসতে পারে, এমন সতর্কতা ট্রাম্পকে আগেই দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্পের এই দাবি তাঁর প্রশাসনের আরও কিছু বক্তব্যের ধারাবাহিকতা, যেগুলোর পক্ষে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সমর্থন দেয়নি; যেমন বলা হয়েছিল, ইরান শিগগির যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে, অথবা তারা দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলতে পারবে এবং তা ব্যবহার করবে।

ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি রয়েছে, এমন অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ট্রাম্প ও তাঁর কয়েকজন শীর্ষ উপদেষ্টা ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরুর সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও দুটি সূত্র জানায়, অভিযানের আগে ট্রাম্পকে জানানো হয়েছিল যে তেহরান অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে।

গত দুই সপ্তাহে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে ছিল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, ফরাসি সেনা থাকা একটি আমিরাতি ঘাঁটি, হোটেল, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনার মতো বেসামরিক অবকাঠামো। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ইরান প্রায় সব জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য হঠাৎ বেড়ে যায়।

মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধের আগে ট্রাম্পকে বলা হয়েছিল ইরানে হামলা করলে সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যেখানে উপসাগরীয় রাজধানীগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, বিশেষত যদি তেহরান মনে করে ওই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন করছে।

সোমবার ওভাল অফিসে এক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও তাঁর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে কেউ তাঁকে আগে জানায় কি না। তিনি জবাবে বলেন, ‘কেউ না, কেউ না, না, না, না। সবচেয়ে বড় বিশেষজ্ঞরাও মনে করেননি তারা হামলা করবে।’

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দ্বিতীয় সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মূল্যায়ন ছিল, ইসরায়েলের পরিকল্পনা অনুযায়ী শীর্ষ ইরানি নেতাদের হত্যার চেষ্টা করলে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিমান হামলা শুরুর পর প্রশাসন অঞ্চলটির বেশ কয়েকটি দূতাবাস থেকে কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়