প্রাইম ভিশন ডেস্ক
বন্ধুদের সঙ্গে বাস ভাড়া করে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে সেই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন ধ্রুবজিৎ রায় আপন (২৬) নামে এক যুবক।
পুলিশ বলছে, চলন্ত বাসটি হঠাৎ ‘বাউলি’ দিলে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ওই তরুণ রাস্তায় পড়ে যান। পরে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে তাকে উদ্ধারের পরিবর্তে লাশ সড়কে ফেলে বাস নিয়ে চলে যান সফরসঙ্গীরা।
রবিবার (২৩ আগস্ট) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাটে সি-সাইড ফিলিং স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ধ্রুবজিৎ রায় নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ডায়নামিক টিউটোরিয়াল হোম নামে একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন। পাশাপাশি ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা পড়ছিলেন।
কোচিং সেন্টারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপনের বাবা বিজয় রায় পোশাক কারখানার সাবেক কর্মকর্তা এবং মা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ বাস স্পটার’ নামে একটি বাসপ্রেমী দলের সঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন আপন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এসব বাসপ্রেমী গ্রুপ নিয়মিত বাস ভাড়া করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের আয়োজন করে।
তবে এসব ভ্রমণে বেপরোয়া গতিতে বাস চালানো ও অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। বাসচালকদের কেউ কেউ এসব গ্রুপে একধরনের তারকা হিসেবে পরিচিত। বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও রয়েছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যম ও কনটেন্ট নির্মাতারাও বাংলাদেশে এসে বাসের এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা নিয়ে প্রতিবেদন ও তথ্যচিত্র তৈরি করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ‘বাংলাদেশ বাস স্পটার’ গ্রুপটি গত ২০ আগস্ট শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভাড়া করে কক্সবাজার যায়। রবিবার ভোরে ঢাকায় ফেরার পথে ফৌজদারহাটের সি-সাইড ফিলিং স্টেশনে বাসটি থামে। সেখান থেকে মহাসড়কে ওঠার পর বাসটি হঠাৎ মোড় নিলে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা আপন ভারসাম্য হারিয়ে সড়কে পড়ে যান। পরে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, বাসটি চালাচ্ছিলেন কোয়েল নামের এক চালক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিচিতি ‘অস্থির কোয়েল’ নামে। নিজের ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন গ্রুপে তিনি দ্রুতগতিতে বাস চালানোর ভিডিও নিয়মিত প্রকাশ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। বাসটিও জব্দ করা যায়নি।
হাইওয়ে পুলিশের বারো আউলিয়া থানার ওসি আরিফুল আমিন বলেন, ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাসটি স্টেশন থেকে বের হওয়ার সময় আপন পেছনে গিয়ে বাসটিকে সংকেত দিচ্ছিলেন। বাসটি সোজা হলে তিনি দৌড়ে গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ান। এরপর বাসটি মহাসড়কে উঠে ফিলিং স্টেশন পার হওয়ার সময় হঠাৎ বাউলি দেয়। তখন আপন পড়ে যান। এরপর কী ঘটে, তা ক্যামেরার আওতায় ছিল না।
ওসি বলেন, ‘সম্ভবত বাসের চাকার নিচে পড়েই তার মৃত্যু হয়েছে। তারা একটি গ্রুপে এসেছিলেন এবং সবাই একে অন্যকে চিনতেন। ছেলেটিকে বাসের হেলপারের দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে। বাস থেকে পড়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গীরা লাশ তুলতেও আসেননি। পরে তার বাবা-মা ঘটনাস্থলে আসেন।’


