প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী। এ কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে সম্প্রতি তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান দায়িত্বপ্রাপ্তরা পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে জনগণের প্রকৃত সমস্যা অনুভব করবেন এবং তা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। সে অনুযায়ী তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের মুজাদ্দেদী আলফেসানী একাডেমি মাঠে আয়োজিত রাঙ্গামাটিতে জেলা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সময় পেলেই রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় যান। এসব এলাকায় ঝিরি থেকে সোলারের মাধ্যমে পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১২ ফুট নিচে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হতো এমন নারীদের এখন আর সেই কষ্ট করতে হচ্ছে না। পাশাপাশি ফিল্টার স্থাপনের মাধ্যমে তারা বিশুদ্ধ পানির সুবিধাও পাচ্ছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করা যায়।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম আব্দুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরানুল হক ভূঁইয়া এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনা এবং তথ্য ও সম্প্রচার খাত নিয়ে পরিকল্পনা বিএনপির ৩১ দফায় রয়েছে। এটিকে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাঙ্গামাটিতে নির্মাণাধীন আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি ভবন নয়; এর পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। গত ১৭ বছরে চলচ্চিত্র ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেও এই আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের মাধ্যমে গুজব, চরিত্রহননসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এ কারণে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সে ফ্যাক্ট চেকিংসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে তথ্য কমপ্লেক্সটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং করে দেশে-বিদেশে কাজ করছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। বর্তমান সরকারের সময়ে বৈধ উপায়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ আয় দেশে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের আগ্রহী মানুষও এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, তথ্যের বিকাশ এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, শিল্প ও সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব। পরিবর্তনের বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেখানো পথে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গামাটি পৌরসভার ট্রাইবেল আদম বটতল এলাকায় ১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা বিশিষ্ট জেলা তথ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
নির্মাণাধীন তথ্য কমপ্লেক্সে সিনেপ্লেক্সের পাশাপাশি ইন্টারনেট, সাইবার ক্যাফে, ইনফরমেশন কিয়স্ক, ডিজিটাল আর্কাইভ ও ডিজিটাল ল্যাবসহ বিভিন্ন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সুবিধা থাকবে। ফলে এটি একটি তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে। সিনেপ্লেক্সে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের অভ্যাস গঠন ও চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধ, আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও আগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সটি নির্মিত হলে এটি সর্বস্তরের জনগণ, সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রেসক্লাব, কমিউনিটি রেডিও, পর্যটন কর্পোরেশন ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ছাড়া সাতটি বিভাগীয় শহরে সাততলা বিশিষ্ট বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স এবং ১৯টি জেলায় পাঁচতলা বিশিষ্ট জেলা তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ১৬টি জেলায় নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে চারটি জেলার নির্মাণকাজ সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছর বাকি জেলাগুলোর নির্মাণকাজ শুরুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২৬টি জেলার নির্মাণকাজ শেষ করে দ্বিতীয় পর্যায়ে অবশিষ্ট জেলাগুলোতে নির্মাণকাজ শুরুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।


