প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দ্বারস্থ হয়েছে ১৫ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানতে পেরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে থানায় গিয়ে অভিযোগ করে ওই শিক্ষার্থী। পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে নিজের বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় ওই শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে পুলিশ হওয়ার ইচ্ছার কথাও জানায় সে।
মাধ্যমিকে পড়া ওই শিক্ষার্থী বলে, ‘আমি নিজেই আমার বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য ইউএনওর কাছে গেছি। আমি লেখাপড়া করে পুলিশ হতে চাই। সে জন্য সাহস করেই আমি ইউএনও স্যারের কাছে গেছি।’
ওই শিক্ষার্থীর মা (অভিভাবক) বলেন, ‘আমার স্বামী সাত বছর আগে মারা গেছে। অভাবের সংসারে পরের বাড়িতে কাজকর্ম করে সংসার চালিয়ে আরও তিনটি মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। এটা ছোট মেয়ে। তার বিয়েটি দিয়ে ঝামেলা মেটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আর তাকে বিয়ে দেব না। তার ইচ্ছে লেখাপড়া করে পুলিশ হওয়া। আমি তাকে সেটা হতে সহযোগিতা করব।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী বলেন, ‘ইউএনও স্যার আমাকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে মেয়েটি আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না, জানতে চান। পরে সেখানে গিয়ে আমি মেয়েটির বিষয়ে বিস্তারিত জানাই।’
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘মেয়েটির বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তার মা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে এবং ধার-দেনা করে সংসার চালান। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে হয়তো মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন আর তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না বলে পরিবার জানিয়েছে।’
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ে ওই শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ মওকুফ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটির পরিবার খুব দরিদ্র। সে ছাড়া তার আরও তিনটি বোন আছে। কোনো ভাই নেই। অভাব-অনটনের কারণেই মেয়েটির মা তার বিয়ে দিতে চেয়েছিল। এখন তার মা মেয়েটির বিয়ে দেবে না বলেছে। তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে তার মা তাকে লেখাপড়া করাবে বলে আমাদের কথা দিয়েছে।’
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটি প্রথমে শিবগঞ্জ থানায় গিয়ে জানায়, তার পরিবার তাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে। পরে থানা থেকে তাকে আমার কাছে পাঠানো হয়। সে আমার অফিসে এসে জানায়, সে বাল্যবিবাহ করতে চায় না। পড়াশোনা করে পুলিশ হতে চায়।’
ইউএনও আরও বলেন, ‘এরপর মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অফিসে ডেকে আনা হয়। পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে। তাঁরা এখনই মেয়েটির বিয়ে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল বলেন, ‘মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বই, ব্যাগ, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মেয়েটি যাতে পড়াশোনা চালিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে জন্য প্রশাসন তার পাশে থাকবে।’


