মাদকসেবীর সংখ্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
তিনি বলেন, সামাজিক অপরাধ ও পারিবারিক সহিংসতার মূল উৎস মাদক। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অসৎ সঙ্গ তরুণদের জীবনকে অন্ধকার জগতে ঠেলে দেয়।
আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের শুধু সনদসর্বস্ব ও প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী বাস্তব ও কর্মমুখী এবং কারিগরি শিক্ষায় পারদর্শী করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
নবীনদের আগামীর রূপকার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানে অধিক মনোযোগী হতে হবে। দেশজুড়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রসারে সরকার লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিগত বছরের অবক্ষয় কাটিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি আধুনিক, টেকসই ও গুণগত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
হাটহাজারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাটহাজারীর সাম্প্রতিক দৃশ্যমান পরিবর্তন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ অঞ্চলে ৫০০টিরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ বা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিগত ১৯ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে অবহেলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যানজট নিরসনে সড়ক প্রশস্তকরণসহ নানামুখী অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পরে হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল। এছাড়া শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এছাড়া একই দিনে প্রতিমন্ত্রী এলজিইডি’র অধীনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে ৩৫ জন কর্মীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেন।
এছাড়া প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে হাটহাজারী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের জন্য মশার ওষুধ ছিটানোর ফগার মেশিন প্রদান করেন।


