প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে নিজেদের সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি এ ঘাঁটির পাশ থেকে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ।
রবিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, ঘাঁটিটি থেকে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমানসহ সব বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার কারণ জানায়নি দেশটি।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহনের খবর পায় পুলিশ। পরে সেখান থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যদিও তাদের জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকেও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার কয়েক দিন পর এতে ইরানের সম্পৃক্ততার জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে তিনি তার দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এতে ‘স্পষ্টভাবেই কোনো বিদেশি পক্ষের হাত রয়েছে’। সন্দেহভাজনদের জামিনে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ‘বিস্মিত’ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
ঘাঁটি থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত যে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে সেটি অস্বীকার করেনি হোয়াইটহলের সূত্রগুলো। পাশাপাশি এটি রাজনৈতিক নয়, বরং সামরিক সিদ্ধান্ত বলেই জানতে পেরেছে বিবিসি। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোয় দেখা গেছে, রবিবার বি-১ বোমারু বিমানগুলো আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে উড়ে যাচ্ছে।
বহু দশক ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী আরএএফ ফেয়ারফোর্ডকে তাদের অগ্রবর্তী সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চালাতে এ ঘাঁটি থেকে বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর এসব অভিযান চালানো হয়।


