Homeএই মুহুর্তেইউটিউব দেখে ছাদে মুক্তা চাষ

ইউটিউব দেখে ছাদে মুক্তা চাষ

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

করোনার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ঘরে বসে সময় কাটছিল যশোরের অভয়নগরের কলেজছাত্র আবদুর রহমানের। একদিন ইউটিউবে মুক্তা চাষের একটি ভিডিও দেখে আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই শুরু। কয়েক বছরের ব্যবধানে বাড়ির ছাদে কৃত্রিম জলাধার তৈরি করে ঝিনুক থেকে মুক্তা উৎপাদন করছেন তিনি। তার এ উদ্যোগে এখন কাজ করছেন আরও চার-পাঁচজন তরুণ।

অভয়নগরের একতারপুর গ্রামের ২৬ বছর বয়সী আবদুর রহমান নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বাবা কবির হোসেন মুরগির খামার দেখাশোনা করেন।

২০২১ সালে করোনার সময় ইউটিউবে মুক্তা চাষের ভিডিও দেখে বিষয়টি সম্পর্কে জানার চেষ্টা শুরু করেন তিনি। শুধু অনলাইন ভিডিও দেখে থেমে থাকেননি। হাতে-কলমে শেখার জন্য নওগাঁ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও ঝিনাইদহের কয়েকটি মুক্তা খামার ঘুরে দেখেন। চাষিদের কাছ থেকে কৌশল ও অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর ওই বছরের নভেম্বরে বাড়ির পাশের একটি ছোট পুকুরে কয়েকটি ঝিনুক দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন।

সাফল্য পাওয়ার পর সামনে আসে জায়গা সংকট। তখন বাড়ির ছাদকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন রহমান। বর্তমানে ছাদের কৃত্রিম জলাধারে প্রায় দুই হাজার ঝিনুক রয়েছে। এ ছাড়া অভয়নগরের নাউলী গ্রামে তার বোনের বাড়ির পুকুরে রয়েছে আরও সাড়ে তিন হাজার ঝিনুক।

বিশেষ প্রক্রিয়ায় ঝিনুকের ভেতরে নিউক্লিয়াস বা ডাইস প্রবেশ করিয়ে তৈরি করা হয় মুক্তা। আকৃতি ও নকশার ভিন্নতাও আনা যায় এ প্রক্রিয়ায়। একটি ঝিনুকের মুক্তা পরিপক্ব হতে সাধারণত ১০-১২ মাস সময় লাগে। মুক্তা চাষের পাশাপাশি ছাদের জলাধারে রঙিন মাছও পালন করছেন রহমান। তার উৎপাদিত মুক্তা মান ও নকশাভেদে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি ও ডিজাইনিং প্রতিষ্ঠান তার কাছ থেকে মুক্তা কিনছে। রহমানের হিসাবে, ২ লাখ টাকার মুক্তা উৎপাদন ও বিক্রিতে তার খরচ হয়েছে ৩০-৪০ হাজার টাকা।

উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একা কাজ সামলানোও সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তার বাবা ছাড়াও চার-পাঁচজন কর্মী খামারে কাজ করছেন। ঝিনুক সংগ্রহ, নিউক্লিয়াস তৈরি, মুক্তায় নকশা তৈরি ও নেট তৈরির মতো কাজে তারা যুক্ত। উৎপাদনের ভিত্তিতে তাদের মজুরি দেওয়া হয়। নিজের উদ্যোগের পাশাপাশি অন্য তরুণদেরও মুক্তা চাষে আগ্রহী করে তুলছেন রহমান। শখ থেকে শুরু করা উদ্যোগ এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে— জানালেন আবদুর রহমান। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক, আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে মুক্তা চাষ আরও বড় পরিসরে নিতে চান তিনি। ভবিষ্যতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে মুক্তা রপ্তানিরও পরিকল্পনা রয়েছে তার।

বাড়ির ছাদে ঝিনুক থেকে মুক্তা উৎপাদনের উদ্যোগটি ব্যতিক্রমী— বললেন অভয়নগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সরদার। তিনি মনে করেন, সঠিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ বেকার তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়