প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে তীব্র জনবলসংকট চলছে। অনুমোদিত ৬৪টি পদের মধ্যে ৫৯টিই শূন্য। অর্থাৎ মোট পদের প্রায় ৯২ শতাংশই বর্তমানে শূন্য রয়েছে। দেশের সাত বিভাগে নমুনা সংগ্রহ ও স্ক্রিনিং হলেও পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইলিং হয় শুধু ঢাকার জাতীয় ল্যাবে। ফলে জনবলসংকটে একদিকে কেন্দ্রীয় ল্যাবের ওপর বাড়ছে চাপ, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে অধিদপ্তরের কার্যক্রম।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওপর উত্থাপিত নথি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, মহাপরিচালক, পরিচালক, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালকসহ কয়েকটি পদে সংযুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে উপপরিচালক থেকে শুরু করে অধিকাংশ বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও সহায়ক পদই শূন্য। সবচেয়ে বেশি সংকট বৈজ্ঞানিক ও পরীক্ষাগারভিত্তিক জনবলে। ৯টি ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ৯টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং ১৮টি পরীক্ষাগার প্রযুক্তিবিদের সব কটি পদই শূন্য।
এ ছাড়া উপপরিচালকের একটি, সহকারী প্রোগ্রামারের একটি, হিসাবরক্ষকের একটি, স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটরের একটি, ডেটা এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটরের দুটি, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের ১০টি, ভান্ডাররক্ষকের একটি এবং অফিস সহায়কের ছয়টি পদও শূন্য রয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকায় জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং দেশের সাতটি বিভাগে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি রয়েছে। বিভাগীয় ল্যাবগুলোতে নমুনা সংগ্রহ ও স্ক্রিনিং করা হয়। পরে সংগৃহীত নমুনা ঢাকার জাতীয় ল্যাবে পাঠিয়ে ডিএনএ প্রোফাইলিং করা হয়।
জনবলসংকটকে অধিদপ্তর নিজেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নথিতে বলা হয়েছে, অধিদপ্তর ও ল্যাবগুলোর কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। প্রকল্পের জনবল আত্তীকরণ এবং অবশিষ্ট পদে নিয়োগের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।
তবে জনবল ঘাটতির মধ্যেও গত সাত মাসে ডিএনএ প্রোফাইলিং-সংক্রান্ত ৩ হাজার ৯৯৫টি নমুনা সংগ্রহ, ১ হাজার ৮০০টি নমুনা পরীক্ষা এবং ৪৫০টি ডিএনএ প্রতিবেদন সরবরাহ করা হয়েছে।
নথিতে অধিদপ্তরের আরও কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের সংকট ও নিজস্ব স্থাপনা না থাকা। অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের নিজস্ব স্থাপনা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


