প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ রবিবার সকাল থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ।
সাজেকে প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন। ভ্রমণ ও ফিরে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পর্যটকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উজোবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ।
এর আগে গতকাল শনিবার বিকালে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহারকারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বললেন, ‘জেএসএসের নাম ব্যবহারকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
অবরোধের কারণে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানিয়েছেন, বর্তমানে সাজেকে প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন। অবরোধের কারণে আগের মতো দুই দফার পরিবর্তে দুপুর ২টায় একবার নিরাপত্তা এসকর্ট চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই এসকর্টের মাধ্যমে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং নতুন পর্যটকদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।


