প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ঢাকার উত্তরায় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা চালিয়েছে একদল ব্যক্তি।
আজ রবিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ওই ব্যক্তিরা একটি ব্যানার নিয়ে জি এম কাদেরের বাসার সামনে জড়ো হয়ে বাড়িটি লক্ষ্য করে একের পর এক ঢিল ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।
জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘একদল ব্যক্তি চেয়ারম্যানের বাসায় এসে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। প্রায় ১০ মিনিট পর তারা চলে যায়।’
হামলাকারীরা অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি যে ব্যানার নিয়ে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিলম সেখানে লেখা ছিল- জুলাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানী করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ, জি এম কাদের এর গ্রেপ্তার চাই।’
হামলাকারী কারা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাহমুদ বলেন, ‘কারা হামলা করেছে আমরা নিশ্চিত না।’
হামলার সময় ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, জি এম কাদেরের বাসায় হামলা হয়েছে। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে যাই, কিন্তু কাউকে পাইনি।’
হামলাকারী ৩০-৪০ জন ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। ওসি বলেন, ‘তারা বাইরে থেকেই ঢিল ছুড়ে ভাংচুর করেছে, তবে ভেতরে কেউ ঢুকতে পারেনি।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রেজাউল করিম বলেন, হামলাকারীরা কারা, তা শনাক্তে আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
হামলার পর জি এম কাদেরের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান ওসি খালিদ মনসুর।
এদিকে জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী সমাজে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি বাড়ি কিংবা একটি গাড়ি ভাঙচুর করে কোনো মানুষের বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার কিংবা রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা যায় না।’
আওয়ামী লীগ আমলে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন জি এম কাদের। ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাতীয় পার্টির অফিস একাধিকার আক্রান্ত হয়েছিল।
জাতীয় পার্টির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি।


