প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ভূমি সেবাকে স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনবান্ধব করতে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের কাজ নির্ভুলভাবে দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তারা বলেছেন, এ কার্যক্রমে কাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সেবাগ্রহীতাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সুবিধা যেন দেশের প্রতিটি নাগরিক সহজে পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় ভূমি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের অগ্রগতি, তথ্য অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম এবং বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প, ডেটা এন্ট্রির অগ্রগতি এবং শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক উপস্থাপনায় প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
এতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পরীক্ষামূলক পর্যায়, একই বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলক পর্যায় এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ে ঢাকা বিভাগের তিনটি জেলার ৩২টি উপজেলা বা সার্কেলের ১১২টি ভূমি অফিসে অটোমেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও তথ্য অন্তর্ভুক্তির কাজে নিয়োজিত কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্যের নির্ভুল মানচিত্রায়ণ, ম্যানুয়াল নামজারি খতিয়ানের অনুলিপি সংগ্রহ, হোল্ডিং ও খতিয়ানের তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সঠিক তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে।
ভূমির মালিকদের ব্যক্তিগত ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরির সুবিধার্থে প্রতিটি ইউনিয়নে পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ সেবা ক্যাম্প পরিচালনার বিষয়টিও প্রকল্পের কার্যক্রমে রয়েছে।
সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য মো. কামাল হোসাইন ও আতিকুল হক প্রকল্পের কৌশলগত দিক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিষয়ে আলোচনা করেন।
তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রান্তিক ভূমির মালিকদের সেবার আওতায় আনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তথ্য অন্তর্ভুক্তির কাজে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে কারিগরি সহায়তা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে ইউএনডিপি।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসাইন এবং ইউএনডিপির রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ ক্লাস্টারের জ্যেষ্ঠ জাতীয় পরামর্শক ও সাবেক মহাপরিচালক আতিকুল হক মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
সভায় ভূমিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদুল হক চৌধুরী ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ শোনেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, অটোমেশন কার্যক্রমে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম যাতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমায় এবং ভূমিসেবার মান উন্নত করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।


