বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ১৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে : মুখ্য সচিব
প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ উদ্বোধন শেষে চট্টগ্রামে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের দিনটি আনন্দ-উল্লাসের সঙ্গে উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।
বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) নগরীর পতেঙ্গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মুখ্য সচিব। এর আগে, তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে টানেল পাড়ি দিয়ে পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা প্রান্তে গিয়ে আবার ফিরে আসেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে যে টানেল যাচ্ছে, সেটি দেখার জন্য এসেছি। এটি সরকারের একটি সিগনেচার প্রজেক্ট। আমাদের দেশের প্রকৌশলীরা দিনরাত পরিশ্রম করে তাদের অসাধারণ কর্মনৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় সাফল্য, অনেক বড় গর্ব।’
‘এই টানেল শুধু দু’পাড়কেই সংযুক্ত করবে না, ওয়ান সিটি টু টাউনও বাস্তবায়ন হয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমরা একে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। এছাড়া দু’পাড়ে অবকাঠামোগত যে বিশাল উন্নয়ন হয়েছে এবং আগামীতেও হবে এটা আমরা ধরে রাখতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন করবেন। টানেল উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী এখানে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। আমরা আনন্দ-উল্লাসের সঙ্গে দিনটি উদযাপন করতে চাই, যেন সারা বাংলাদেশের মানুষ এটি নিয়ে গর্ব করে।
বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ১৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে : মুখ্য সচিব
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় এই শিল্পনগর পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কর্মকর্তা, প্রশাসন এবং পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও সোনাগাজী উপজেলার ৩৩ হাজার ৮০৫ একর জমিতে গড়ে উঠছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর। ইতোমধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এখানে উৎপাদন শুরু করেছে। আরও তিন প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে।
শিল্পনগর পরিদর্শন শেষে মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, ইকোনমিক জোনে কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে আরও কারখানা গড়ে উঠছে। এ জোনে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ কাজ করবে। তাদের নিরাপত্তা, বাসস্থান, শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা, এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের পুলিশি সহায়তাগুলো বৃদ্ধি করতে হবে। থানা তৈরি করতে হবে। তাদের মুভমেন্ট ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নের এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ বিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ শিল্পনগরে ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের ১৫২ শিল্প প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে এসেছে। এখানে একসময় ১৩৯টি পরিবার ছিল। এ শিল্প নগরী করার সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাদের ঘর করে দেব। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হবে।
তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, আমরা উন্নয়নও চাই, পরিবেশও চাই। পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে এখানে সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো করা হবে। এখানে সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান (সিইটিপি) থাকবে। কারো নিজস্ব ইটিপি থাকলে সেটাতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে হবে। না হলে সিইটিপিতে আসতে হবে।


