Homeসংবাদবাড়ছে লাশের সারি, নিহত বেড়ে ১৭, আহত শতাধিক

বাড়ছে লাশের সারি, নিহত বেড়ে ১৭, আহত শতাধিক

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

এবার গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে ঘটল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। সাততলা ভবনে এ বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা শতাধিক। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে, শনিবার (৪ মার্চ) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অক্সিজেন কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়। আর সায়েন্স ল্যাবে নিহত হন ৩ জন।

মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারের নর্থ-সাউথ রোডের ১৮০/১ হোল্ডিংয়ে সাততলা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সাততলা যে ভবনে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার তিনতলা পর্যন্ত পুরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে স্যানিটারি সামগ্রী আর গৃহস্থালী সামগ্রীর বেশ কয়েকটি দোকান ছিল। বিস্ফোরণে দেয়াল ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ভেতরের জিনিসপত্র ছিটকে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। ভবনের উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাশের কয়েকটি ভবনও। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় আপাতত উদ্ধার কাজ স্থগিত রয়েছে।

পাশের সাকি প্লাজা নামে পাঁচ তলা ভবনের ওপরে চারটি ফ্লোরে ব্র্যাক ব্যাংকের গুলিস্থান শাখা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের এসএমই সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। বিস্ফোরণের ধাক্কায় কাচ ভেঙে ব্যাংকের অফিস কক্ষগুলোর পর্দা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

বিস্ফোরণের পরই উদ্ধার কাজে অংশ নেয় ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট। বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থল থেকে আহতদের হাসপাতালে নেয়ার কাজ করেছে। এ ছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও স্থানীয়রাও উদ্ধার কাজ করেছেন। বিস্ফোরণে নিহত ১৭ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্যাকেটবন্দি করে রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারী। তবে সবার পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিস্ফোরিত ভবন থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ভেতরে আরও মানুষ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকেই তাদের স্বজনদের হাসপাতাল ও মর্গে না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছে রয়েছেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় উদ্ধার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রেখেছে ফায়ার সার্ভিস।

যা বলছে ফায়ার সার্ভিস

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন রাত পৌনে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবনের বেজমেন্ট এবং নিচতলা একদমই ধসে গেছে। ভবন নাজুক হয়ে গেছে, কলাম ভেঙে গেছে। এ অবস্থায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। এটাকে ‘শোরিং’ করে (কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায়) উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সহায়তায় এ কাজ করা হবে। সেনাবাহিনী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছে, আরও আসছে। এ ভবনটি এখন স্টেবল করতে হবে। না হলে ভেতরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। ভেতরে কতজন আছে সে সংখ্যাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলেও জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, এমনভাবে বিস্ফোরণে ভবনটি ধসে পড়েছে যে ভেতরে ঢোকার কোনো অবস্থা নেই। জায়গায় জায়গায় ইট ঝুলে আছে। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছি। আমরা বের হওয়ার পর আরেকটি টিম ভেতরে ঢুকেছে।

আহতদের দেখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাত পৌনে ৮টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক হতাহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেলে যান। এসময় তিনি আহত রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। বলেছেন, চিকিৎসক ও নার্সদের কোনো সংকট নেই। চিকিৎসায় কোনো ব্যঘাত ঘটবে না।

তিনি বলেন, আমরা আশপাশের সব হাসপাতালে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। চিকিৎসক-নার্স সবাই কাজ করছেন। এছাড়া ইমার্জেন্সিতেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে ভর্তি করার প্রয়োজন হলে ওয়ার্ডে বা যেখানে প্রয়োজন সেখানে পাঠানো হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ১১২ জনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে, কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে আর ৬৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ

বিস্ফোরণের পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপর কাজ শুরু করেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। কোনো নাশকতা থেকে বিস্ফোরণ, নাকি গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় মিথেন গ্যাস, এসির গ্যাস বা পয়োঃগ্যাস জমে এমন বিস্ফোরণ হতে পারে। এখন এটা নাশকতা না দুর্ঘটনা, তা আমাদের দায়িত্বরত বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত শেষ করে বিস্তারিত বলতে পারবেন।’
বিস্ফোরণের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল যে মুহূর্তেই কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনায় দেয়াল ভেঙে রাস্তায় এসে পড়েছে। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়কের গাড়িও। হতাহত হয়েছেন বিভিন্ন গাড়ির যাত্রী ও পথচারীরাও। এরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে গুলিস্তান থেকে নর্থ-সাউথ রোড পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অক্সিজেন কারখানা এবং ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ভবনে বিস্ফোরণের পর এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় বিস্ফোরণে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটল।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়