প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন হ্যারি কেইন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রথম কোনো ইংলিশ ফুটবলারের হাতে উঠল ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ব্যক্তিগত পুরস্কার।
লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর চূড়ান্ত খাম থেকে বেরিয়ে আসে কেইনের নাম। সঙ্গে সঙ্গে মিলনায়তনজুড়ে ওঠে তুমুল হর্ষধ্বনি।
এর কিছুক্ষণ আগেই ঘোষণা করা হয় নারী ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম। লন্ডন সিটি লায়নেসেসের আলেক্সিয়া পুতেয়াস জিতেছেন এই পুরস্কার। পাঁচ বছর আগে বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথমবার জয়ের পর এটি তার তৃতীয় ব্যালন ডি’অর।
পুরুষদের বিভাগের ভোটাভুটিতে শিরোপার অন্যতম দুই দাবিদার বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলেছেন কেইন।
ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক ‘লেকিপ’ আয়োজিত এই ট্রফি দেওয়া হয় বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনের সাংবাদিক ও প্রশাসকদের ভোটের মাধ্যমে। দুর্দান্ত একটি বছর কাটানোর স্বীকৃতি পেলেন কেইন। এ বছর তিনি জিতেছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট (ইউরোপের শীর্ষ গোলদাতার পুরস্কার), বায়ার্ন মিউনিখের বুন্দেসলিগা (জার্মানির শীর্ষ ফুটবল লিগ) শিরোপা জয়ে রেখেছেন বড় ভূমিকা এবং অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডকে নিয়ে গেছেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।
ট্রফি গ্রহণ করার সময় কেইন বলেন, ‘এ বছর লড়াইটা সত্যিই খুব কঠিন ছিল। অবিশ্বাস্য সব খেলোয়াড়দের সাথে আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে।’
এরপর তিনি অন্যান্য বিভাগে মনোনীত সবাইকে অভিনন্দন জানান। এছাড়া পুরো ক্যারিয়ারে যাদের সাথে খেলেছেন, তাদের প্রায় সবাইকেই ধন্যবাদ দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রায় ভাষাহীন। লন্ডনের মাটিতে এই পুরস্কার পাওয়াটা আনন্দকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।’
সহজাত গোলদাতা হিসেবে এ বছর কেইনের পরিসংখ্যান বিস্ময়কর। ২০২৫ সালের আগস্টের শুরু থেকে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৮৯টি গোল করেছেন।
বায়ার্ন মিউনিখে কেবল গোল করেই নয়, নিজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, সৃজনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা ও পেশাদারিত্ব দিয়ে তিনি বুন্দেসলিগার প্রিয়মুখ হয়ে উঠেছেন। তিন বছর আগে কেইনকে দলে ভেড়াতে রেকর্ড ১০০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছিল বায়ার্ন। ক্লাবটির চিরাচরিত দলবদলের নীতির বাইরে গিয়ে করা এই চুক্তি তখন বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল, কারণ কেইনের বয়স তখন ছিল ৩০ বছর।
মাঠ ও মাঠের বাইরে কেইনের অবদান এতটাই বিশাল যে বায়ার্নের সেই বিপুল অর্থ ব্যয় এখন পুরোপুরি সার্থক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যালন ডি’অর জয়ী হিসেবে কেইন এখন অনন্য উচ্চতায় থাকা ফুটবলারদের কাতারে প্রবেশ করলেন। দীর্ঘ সময় ধরে মেসি ও রোনালদোর একচেটিয়া আধিপত্যে থাকা এই পুরস্কারের নতুন উত্তরাধিকারী হলেন তিনি। এই অর্জন কেবল খেলাটির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর স্বীকৃতিই দেয় না, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতে তার বাণিজ্যিক আয়ের ক্ষেত্রেও বড় উল্লম্ফনের নিশ্চয়তা দেয়।
এ পুরস্কার কেইনের ১৬ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারের এক রাজকীয় স্বীকৃতি। লেটন ওরিয়েন্ট ও মিলওয়ালের মতো ক্লাবে ধারে খেলা থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগে নিজের জায়গা পাকা করতে অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন তিনি। আর এখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের কাতারে নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে কেইন ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়েছেন। সেইসঙ্গে ১২৫ ম্যাচে তার আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়ে গেছেন ৯১-এ। ৩৩ বছর বয়সি এই তারকা এখন তাকিয়ে আছেন দুই বছর পর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে ভিন্ন এক অমরত্ব লাভের সেটিই হবে তার শেষ সুযোগ।


