প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সুফি মিজানুর রহমান। শূন্য থেকে শীর্ষে ওঠা সাধনপ্রিয় এক ব্যবসায়ীর নাম। যিনি নিজ চেষ্টা ও গুণে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে স্থান করে নিয়েছেন বিশ্ব অর্থনীতিতে। মানবিকতার অনন্য সব গুণাবলি কপালে এঁটে হয়েছেন সফল একজন ব্যবসায়ী। শুধু কি ব্যবসায়ী? এর বাহিরে আরও একটা পরিচয় বহন করেন এই সুফি সাধক। তিনি ঢাকায় ইন্দোনেশিয়ার অনারারি কনসাল। ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি সম্মানিত এই পদে নিযুক্ত হন তিনি।
শুধু সুফি মিজান নন। সুফি ফ্যামেলির একই ছাঁদের নিচে বর্তমানে টেকনোক্র্যাট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৪জন। সুফি মিজানুর রহমান ছাড়াও সুফি পরিবারে টেকনোক্র্যাটের তালিকায় রয়েছেন মোহাম্মদ মহসিন, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও মোহাম্মদ আখতার পারভেজ হিরু।
সুফি পরিবারে টেকনোক্র্যাট হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার এই ধারা শুরু হয় সুফি মিজানুর রহমানের বড় ছেলে মোহাম্মদ মহসিনের হাত ধরে। ২০১৫ সালের ৩ মার্চ গাজিপুরে কোরিয়ার অনারারি কনসাল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মোহাম্মদ মহসিন ।
এরপর ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি ঢাকায় রুয়ান্ডার কোরিয়ার অনারারি কনসাল হিসেবে দায়িত্ব নেন সুফি মিজানের মেঝো ছেলে মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।
সর্বশেষ অনারারি কনসাল নামক সম্মানিত এই পদের পালক কপালে এটেছেন সুফি মিজানের অপর এক সন্তান মোহাম্মদ আকতার পারভেজ হিরু। চট্টগ্রামে মালয়েশিয়ার অনারারি কনসাল হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রটোকল নাঈম উদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত একটি পত্র আখতার পারভেজ হিরু’র কাছে তুলে দেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত হাজনা মো. হাশিম উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীনতার পর ব্যবসা শুরু করেন সুফি মিজানুর রহমান। পাঁচ দশকে তিনি শুন্য থেকে গড়েছেন ৩৩টি প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করে জীবন ধারন করছেন প্রায় ১০ হাজার কর্মজীবী মানুষ।
তথ্য মতে বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা আর্থিক লেনদেন করেন সুফি মিজানের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে জমাদেন হাজার কোটি টাকা।
সুফি মিজানুর রহমানের বড় সন্তান মোহাম্মদ মহসিন সুফি সংগীতের সাধক। সফল ব্যবসায়ী হওয়া ছাড়াও মানবিক মানুষ হিসেব দেশজুড়ে সমাদৃত তিনি।
২০১৫ সালের ৩ মার্চ মোহাম্মদ মহসিনের হাত ধরে সুফি পরিবারে টেকনোক্র্যাট সম্মাননার যে পালক যুক্ত হয় তারই ধারাবাহিকতায় সুফি ফ্যামেলিতে টেকনোক্র্যাট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করা গুণী মানুষের সংখ্যা এখন চার। একই পরিবারে চারজন টেকনোক্র্যাট হওয়ার এই সম্মান চট্টগ্রামে একক এবং অনন্য ।
চলতি মাসে ১৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার চট্টগ্রামে মালয়েশিয়ার অনারারি কনসাল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করা আকতার পারভেজ হিরু। তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি মেধার স্বাক্ষর ছড়িয়েছেন দেশ জুড়ে। তাঁর হাত ধরেই প্রোটনের মতো বিশ্বজয়ী ব্র্যান্ডের গাড়ি সংযোজন শুরু হয় বাংলাদেশে। তরুণ এই উদ্যোক্তা স্বপ্ন দেখেন দেশের তৈরি প্রযুক্তির গাড়ি বিশ্ব জয় করবে।
এক ঘরে চার টেকনোক্র্যাট -এমন প্রাপ্তিতে নিজের অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে মোহাম্মদ মহসিন বলেন, সুফি পরিবারের চারজন মানুষ চারটি দেশে নিজ দেশের পতাকা বহন করে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এটা যেমন সম্মানের তেমনি দায়েরও।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামে মালয়েশিয়ার অনারারি কনসাল আখতার পারভেজ হরু বলেন, দেশের পতাকা বহন করে দেশের বাহিরেও দেশের জন্য কাজ করার যে সুযোগ পেয়েছি-দেশের মানুষের কল্যাণে সে সুযোগ কাজে লাগাবো।
তিনি আরও বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যকে মালয়েশিয়ার বাজারে পরিচিতি বাড়ানোসহ মালয়েশিয়ার উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা দেশের মানুষ যাতে সহজেই পেতে পারেন সে সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য কাজ করার ইচ্ছা আছে।


