বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাপ্রতিদিন ডোবার কাছে গিয়ে লাশের অবস্থা দেখতেন রুবেল

প্রতিদিন ডোবার কাছে গিয়ে লাশের অবস্থা দেখতেন রুবেল

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

আয়নীকে হত্যার পর লাশটি বস্তাবন্দি করে সবজির গাড়িতে তোলেন রুবেল। এরপর ত্রিপল দিয়ে ঢেকে মুরগির ফার্ম এলাকায় নিয়ে তারা পুকুরের ডোবায় ফেলে দেন। পরে আয়নীর পরিহিত গেঞ্জি, পায়জামা ও স্যান্ডেল সরাইপাড়া এলাকার একটি নালায় ফেলে দেন। ঘটনার পর থেকে প্রতিদিন ডোবার কাছে গিয়ে লাশের অবস্থা দেখতেন রুবেল। লাশের বস্তাটি মানুষের দৃষ্টির আড়াল করতে খড় দিয়ে ঢেকে দিতেন।

রুবেলকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানা যায় বলে জানান পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ইখতিয়ার উদ্দিন। তিনি বলেন, রুবেলের দেওয়া তথ্যে আয়নীর পরিহিত গেঞ্জি, পায়জামা, স্যান্ডেল ও হিজাব উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে নেয়া হয়েছে।

এর আগে, আয়নীর মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রুবেলকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। এরপর রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কোনোভাবে মুখ খোলেননি তিনি। পিবিআই কর্মকর্তাদের টানা জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভোরে মুখ খোলেন রুবেল। আয়নীকে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেন বলে জানান তিনি। এরপর ভোরেই তাকে নিয়ে ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার দিন ২১ মার্চ বিড়াল ছানা দেওয়ার কথা বলে আয়নীকে দেখা করতে বলেন রুবেল। এরপর তাকে একটি ভবনের চতুর্থ তলায় ফুফুর বাসায় নিয়ে যান। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আয়নীকে ধর্ষণ করেন রুবেল। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় গলা টিপে তাকে হত্যা করেন।

সম্প্রতি ঐ এলাকায় একটি বলাৎকারের ঘটনা জানাজানি হয়। এটিও জানাজানি হবে এমন আশঙ্কায় আয়নীকে হত্যা করেন রুবেল। পরে ঐ রাতেই লাশটি বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেন।

মঙ্গলবার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন আয়নীর মা বিবি ফাতেমা। অভিযোগ শুনে মামলাটি সরাসরি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাহাড়তলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

আবিদা সুলতানা আয়নী নগরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা-মা দুইজনই পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। কয়েকদিন আগে শিশুটি তার মাকে জানায়- স্কুলের এক বান্ধবী বিড়াল ছানা কিনেছে। তাকেও একটি বিড়াল ছানা কিনে দিতে মায়ের কাছে আবদার করে সে। বেতন পেলে কিনে দেবেন বলে আশ্বাস দেন মা। তখন রাস্তার সবজি বিক্রেতা রুবেল তাকে বিড়াল ছানা এনে দেবেন বলে মাকে জানায় শিশুটি। কিন্তু মা তাকে রুবেলের কাছে যেতে নিষেধ করেন।

এ ঘটনার পর গত ২১ মার্চ স্কুলে গিয়ে আর ফিরে আসেনি আয়নী। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার দিন এবং তার আগের দিন আয়নীকে রুবেলের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়