Homeমুল পাতাক্ষমতায় কে থাকবে তা ঠিক করবে জনগণ : আ জ ম নাছির

ক্ষমতায় কে থাকবে তা ঠিক করবে জনগণ : আ জ ম নাছির

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, কোন বিদেশী প্রভুর প্রেসকিপশনে নয়, ক্ষমতায় কে আসবে বা কে যাবে তা এদেশের জনগণ তাদের ভোটধিকারের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেবে।

ক্ষমতাধর বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে কোন বিদেশী শক্তির নাক গলানোর সুযোগ নেই। ক্ষমতাধর একটি দেশ বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখে হতবাক। এটা তাদের সহ্য হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকুক ঐ দেশটি চায় না। ক্ষমতা দেশটির চরিত্র ও ভূমিকা কারো অজানা নয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ঐ দেশটি পাকিস্তানের পক্ষে বঙ্গপোসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। বৈশ্বিক প্রতিবাদ ও নিন্দার মুখে ঐ সপ্তম নৌবহরকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ও পাকিস্তানের পক্ষে ভেটো দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের পক্ষে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন পাল্টা ভেটো প্রদান করায় তাদের স্বার্থ হাসিল হয় নি এবং তারা পরাজিত হয়।

এছাড়াও পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এরা স্বাধীন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানের সাথে ষড়যন্ত্র করে। ১৯৭৩ সালে নগদ মূল্যে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ খাদ্য সামগ্রী কিনেছিল। বাংলাদেশে একটি কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি কুমতলবে আমেরিকা খাদ্যবাহী জাহাজটিকে ফিরিয়ে নেয় এবং প্রচার করে যে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ লোক মারা যাবে। এই সাময়িক দুর্ভিক্ষ বঙ্গবন্ধু মোকাবিলা করে সফলতার সাথে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছিল। সৌভাগ্যবশত সে বছর বাম্পার ফসল উৎপাদিত হয়। এটাও তাদের সহ্য হয়নি। তাই ১৯৭৫ সালে মার্কিনি গোয়েন্দা সংস্থা সিআই ও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনায় ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নিশংসভাবে হত্যা করা হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপি জামাতের নৈরাজ্য ও নাশকতা বিরোধী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শান্তি সমাবেশে তিনি একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মতামত দেওয়ার পর তা পার্লামেন্টে বিল আকারে গৃহীত হয়। তাই সংবিধান সংশোধন ছাড়া তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন বৈধ্যতা ও সুযোগ নাই। তিনি আগামী ২৩ ও ২৮ মে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহৎ পরিসরে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ বলেন, আমরা শান্তি চাই। কিন্তু নাশকতা ও নৈরাজ্য চাই না। এবার রাজপথে শুধু সমাবেশ করে নয়, প্রতিটি ইউনিটে, ওয়ার্ডে ও থানায় নাশকতা নৈরাজ্য কারীদের সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে। সভাপতি বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, বিএনপি জামাত বুঝে গেছে শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে এদেশকে তাদের এজেন্ডা অনুযায়ী পাকিস্তান বানানো যাবে না। একুশবার শেখ হাসিনার প্রাণনাশের ব্যর্থ চেষ্টার পরও আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন। এটা বিএনপি জামাতের মাথাব্যাথার বড় কারণ।

আগামী ২৪ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা ও শেখ হাসিনার বিজয় ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব সফর আলী, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল মনছুর, এড. কামাল উদ্দীন আহমেদ, জাফর আলম চৌধুরী, রোটারিয়ান মোঃ ইলিয়াছ, ড. নেছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু, হাজী বেলাল আহমদ, থানা আওয়ামী লীগের সিদ্দিক আলম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সামশুল আলম, মোজাহেরুল আলম চৌধুরী, ইদ্রিস কাজেমী, এড. আইয়ুব খান, ইকবাল চৌধুরী, আবুল হাসেম বাবুল, স্বপন কুমার মজুমদার, শেখ সরওয়ার্দী, আবু তৈয়ব সিদ্দিকী, ফয়জুল্লাহ বাহাদুর, সাইফুল আলম বাবু, ইউনিট আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দীন, ওয়াহিদ চৌধুরী মুক্তি। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন- উপদেষ্টা শেখ মোঃ ইছহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, সৈয়দ হাসান মাহমুদ শমসের, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, হাজী মোঃ হোসেন, হাজী জহুর আহমদ, দিদারুল আলম চৌধুরী, জোবাইরা নার্গিস খান, নির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়