Tuesday, June 30, 2026
spot_img
Homeএই মুহুর্তেএবার চালের নমুনায় মিললো বিষাক্ত উপাদান

এবার চালের নমুনায় মিললো বিষাক্ত উপাদান

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

এবার এক গবেষণায় মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সচরাচর খাওয়া চালের নমুনায় আর্সেনিক, সীসার মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু ও বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. নাজমা শাহীনের নেতৃত্বে একদল গবেষকের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘কার্সিনোজেনিক অ্যান্ড নন-কার্সিনোজেনিক হেলথ হ্যাজার্ডস অফ পোটেনশিয়াল টক্সিক এলিমেন্টস ইন কমনলি কনজিউমড রাইস কাল্টিভার্স ইন ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা পত্রটি ‘প্লস ওয়ান’ নামের একটি জার্নালে গত ১৪ মে তারিখে প্রকাশিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের মাধ্যমে নিয়মতিভাবে এসব হেভি মেটাল শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারসহ উচ্চরক্তচাপ, কার্ডিওভাসকুলার রোগ, ডায়াবেটিস, হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষণে বাধা, প্রস্রাবে সমস্যা, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি, মূত্রনালীর সংক্রমণসহ গুরুতর রোগ বাসা বাঁধতে পারে।

গবেষকরা ঢাকা শহরের চারটি পাইকারি বাজার থেকে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় এমন ১০ ধরনের চালের নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- নাজিরশাইল, মিনিকেট, পাজাম, কাটারী, বাসমতি, কালীজিরা চিনিগুড়া, ব্রি-৩২, বাশফুল, লাল বিরুই চাল।

এসব চালের নমুনা পরীক্ষা করে আর্সেনিক, সীসা, ক্রোমিয়াম, কপার, ক্যাডমিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, মার্কারি, নিকেলের মতো ভারী ধাতু এবং বিষাক্ত উপাদান ক্ষতিকর মাত্রায় পাওয়া গেছে।

গবেষণায় মানুষের শরীরে এসব ভারী ধাতুর কার্সিনোজেনিক এবং নন-কার্সিনোজেনিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়। গবেষকরা বলছেন, ইউনাইটেড স্টেটস এনভাইরনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইউএসইপিএ)-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, সীসার স্বাভাবিক মাত্রা কেজিতে ০.০০০০০১ মিলিগ্রাম। তবে গবেষণায় বিভিন্ন প্রকারের চালের মধ্যে এই ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে কেজিতে সর্বনিম্ন ০.০১ মিলিগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ১.০৮ মিলিগ্রাম। একইভাবে, আর্সেনিকের মাত্রা ছিল প্রতিকেজিতে ০.০৪ থেকে ০.৩৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত।

এই দুটি ভারী ধাতুই মানুষের শরীরে ক্যানসার তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া বাকিগুলো নন-কার্সিওজেনিক নানান রোগের জন্য দায়ী হয়।

ডা. নাজমা শাহীন বলেন, চালে সীসা এবং আর্সেনিকের যে পরিমাণ পাওয়া গেছে, তা অ্যালাওয়েবল লিমিট বা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি। এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কনজিউম করলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের গবেষণার উদ্দেশ্য হলো সরকারকে একটি পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, যেন এসব খাদ্যে ভারী ধাতু দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়