Homeএই মুহুর্তেজাতীয়ভাবে হিজরি বর্ষ উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

জাতীয়ভাবে হিজরি বর্ষ উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

১ মহরম সাধারণ ছুটির দাবিতে জাতীয়ভাবে হিজরি বর্ষ উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলন করে হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদ।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানে নাছির উদ্দীন মাহমুদের সভাপতি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষানুরাগী ও সংগঠক আবদুর রহিম, কো-চেয়ারম্যান মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসেন, কে-চেয়ারম্যান আলী হোসাইন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সৈয়দ মোহাম্মদ আবু আজম, যুগ্ম মহাসচিব এম মহিউল আলম চৌধুরী, সহ-আইন সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, দফতর সচিব মুহাম্মদ নুর রায়হান চৌধুরী। এসময় হিজরি নববর্ষ উদযাপনের যৌক্তিকতা দাবি ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়।

১. ধর্মীয় সংহতির বিকাশ: হিজরি নববর্ষ উদযাপন আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করবে। ১ মহররম জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হলে জাতি একসাথে এই পবিত্র দিন উদযাপন করতে পারবে, যা আমাদের ধর্মীয় সংহতিকে শক্তিশালী করবে।

২. অপসংস্কৃতি ও ভোগবাদী সংস্কৃতির প্রতিরোধ:
বর্তমান বিশ্বে অপসংস্কৃতি ও ভোগবাদী চিন্তা আমাদের মূল্যবোধের ক্ষতি করছে। হিজরি নববর্ষ উদযাপন আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক চেতনা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। এটি আমাদের সমাজকে মাদকাসক্তি, অপরাধমূলক কার্যকলাপ এবং অন্যান্য নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে রাখবে।

৩. সাংস্কৃতিক চেতনার উন্নয়ন: হিজরি নববর্ষ উদযাপন আমাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এবং নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে। এটি একটি সমন্বিত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে, যা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করবে।

ঐতিহাসিক ঘটনার পুনঃস্মরণ: মহররম মাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদেরকে ইসলামিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে। এসব ঘটনা স্মরণ করে আমরা ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বজায় রাখতে পারি।

আমাদের দাবি ও প্রস্তাবনা
১. ১ ( পহেলা) মহররম সাধারণ ছুটি ঘোষণা:
আমরা দাবি করছি ১ মহররমকে সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হোক। এই দিনটি জাতীয় ছুটি হলে জনগণ ধর্মীয় উৎসাহ উদ্দীপনায় হিজরি নববর্ষ উদযাপন করতে পারবে এবং তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারী-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকায়ন ও অনুষ্ঠান আয়োজন:
হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারী ও বেসরকারী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকায়ন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা করা হোক। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে হিজরি সনের তাৎপর্য বোঝাতে সহায়ক হবে।

৩. পাঠ্যপুস্তকে হিজরি সনের উপর প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা প্রকাশ:
আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, পাঠ্যপুস্তকে হিজরি সনের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা ও অন্যান্য সাহিত্য কর্ম প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক শিক্ষার প্রচার করবে।

৪. বন্দিদের মুক্তি ও জেলখানা, হাসপাতালে সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা: হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের মধ্যে বিশেষ মুক্তি ও স্বাস্থ্য সুবিধার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এছাড়া, বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলখানায় রোগী ও বন্দিদের জন্য সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা করা হোক। ৫. জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রচার: হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এই প্রচারাভিযান জনগণের মধ্যে হিজরি নববর্ষ উদযাপনের গুরুত্ব এবং সরকারী সমর্থনকে তুলে ধরবে।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ১ মহররমকে সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা এবং হিজরি নববর্ষের জাতীয় উদযাপন নিশ্চিত করার জন্য আপনার মূল্যবান হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আপনার নেতৃত্বে এই উদ্যোগ ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, জাতীয় ঐক্য এবং সামাজিক উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু করবে। আপনার এই পদক্ষেপ জাতীয় জীবনে হিজরি নববর্ষের উদযাপনের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য বৃদ্ধি করবে।

হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের কার্যক্রম ও প্রচেষ্টা
হিজরি নববর্ষের ইতিহাস সুপ্রাচীন। কালে কালে যুগে নানান কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে হিজরি নববর্থ পালিত হয়ে আসছিলো। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে, এ বঙ্গভূমেও হিজরি নববর্ষ উদযাপনের চিত্র পাওয়া যায়। কিন্তু কালক্রমে অন্যান্য বর্ষ পালনের রেওয়াজ আর ঢামাঢোলের ভেতর হিজরি বর্ষপালন ক্ষীণ হয়ে উঠে। স্থিমিত হয়ে পড়া একটি প্রাচীনতম সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলতে ও আগ্রাসী মনোভাবের নৈতিক অবক্ষয়ী সংস্কৃতির বিপরীতে বুনিয়াদী ও শুদ্ধাচারী সংস্কৃতির প্রসারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকেই নবরূপ লাভ করে হিজরি নববর্ষের উদযাপন। এবং সে উদযাপনের পুরো পৃষ্টপোষকতা ও সাংগঠিকরণে গঠিত হয় হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদ।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চট্টগ্রামের সুপ্রসিদ্ধ পাবলিক প্লেসগুলোতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন , স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ, সাংগঠনিক কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে। সারাদেশেই হিজরি বর্ষপালনের জোয়ার বইছে। গড়ে উঠেছে সাংগঠনিক জনমত। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী, এমপি, মেয়র,সরকারী কর্মকর্তাগণ, শিক্ষাবিদ-সাংবাদিক হিজরি বর্ষপালনের সাথে নানান ভাবে যুক্ত

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়