রবিবার, মে ৩১, ২০২৬
spot_img
Homeচট্টগ্রামকালুরঘাট সেতু : নির্মাণ প্রকল্পের ডিজাইনের কাজ শুরু

কালুরঘাট সেতু : নির্মাণ প্রকল্পের ডিজাইনের কাজ শুরু

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

‘কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর একটি রেল-কাম রোড সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের ডিটেইল ডিজাইনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৭-৮ মাসের মধ্যে শেষ হবে প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ, ডিটেইল ডিজাইন চূড়ান্ত এবং ভূমি অধিগ্রহণের কাজ। এরপর ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে সেতু নির্মাণ কাজ।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অনুবিভাগের উপ সচিব মো. শফিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে মুহাম্মদ আবুল কামাল চৌধুরীকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সেতুটিতে হবে সড়ক ও রেলের স্ট্যান্ডার্ড ডাবল লাইন। মূল সেতুটি ৬০ ফুট প্রশস্ত ও দৈর্ঘ্য ৭০০ মিটার। উচ্চতায় নদীর পানির সর্বোচ্চ লেভেল থেকে ১২ মিটার। উচ্চতার সাথে লেভেল ঠিক রাখার জন্য এই প্রকল্পের সাথে সংযুক্ত করা হবে উভয়পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার করে ১০ কিলোমিটার সড়ক। সেতুটি নির্মাণে ১৪১ একর জমি অধিগ্রহণ করার জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব কাজ শেষ করতে সময় লাগবে ৭-৮ মাস। সেতুতে রেল চলাচলের জন্য ৩০ ফুটের মধ্যে ডাবল লাইন এবং সড়ক পরিবহন চলাচলের জন্য ৩০ ফুটের ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে। মূল প্রকল্পের মধ্যে থাকছে ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার বাঁধ, ১১ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজ।

প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আবুল কালাম চৌধুরী জানিয়েছেন, সেতু প্রকল্পের ডিটেইল ডিজাইনের কাজ চলছে। ১৪১ একর জমি অধিগ্রহণ করার জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ডিটেইল ডিজাইন চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে দরপত্র আহ্বান করা হবে। দরপত্রে শুধুমাত্র কোরিয়ান ঠিকাদার বা জয়েন্ট ভেঞ্চারের (জেভি) মাধ্যমে অন্যরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০৩০ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সেতু থেকে ৭০ মিটার উজানে কোরিয়ার আর্থিক সহায়তায় কালুরঘাট নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। গত বছরের ৭ অক্টোবর ‘কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর একটি রেল-কাম রোড সেতু নির্মাণ’ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বছরের জুন মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থায়ন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সরকারের ঋণচুক্তি হয়েছিল।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১,৫৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪,৪৩৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা দিবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৭,১২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা আসবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটিজ (ইডিপিএফ) কোরিয়া থেকে। ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দরপত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার পরামর্শক নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরামর্শক নিয়োগের পরপরই ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়