প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ঐতিহাসিক রেলওয়ের ‘হাতির বাংলোটি’ দেখার জন্য চট্টগ্রামের দূর–দূরান্ত থেকে অনেক ভ্রমণপিপাসু দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন। সিআরবির পাহাড়ে দৃষ্টিনন্দন হাতির বাংলোটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে রেলওয়ের শতাব্দীর প্রাচীন ইতিহাস।
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত চট্টগ্রামে ১৩২ বছরের পুরনো বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘হাতির বাংলো’। দীর্ঘ শতাব্দী পেরিয়ে আজও রেলওয়ের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এক অন্যন্য স্থাপনা হিসেবে ঠাঁই করে নিয়েছে।
আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের সদর দপ্তর ছিল চট্টগ্রামে। ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বদিক এবং বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলসহ পুরো আসাম প্রদেশে রেললাইন স্থাপন করেছিল আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে। ১৮৯৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হয় বৃটিশ প্রকৌশলী ব্রাউনজারের অধীনে। ঊনিশ শতকের মাঝামাঝিতে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য ডুপ্লেক্স এই বাংলোটি নিজেই নির্মাণ করেন প্রকৌশলী ব্রাউনজার। এর নির্মাণ কাজে ফেরো সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এমন নান্দনিক স্থাপনাটিতে কোনো লোহা ব্যবহার করা হয়নি।
বাড়িটি দেখতে অবিকল হাতির মতো মনে হলেও এটি মূলত ১৩২ বছর আগে ইট–পাথরে নির্মিত একটি প্রাচীন ভবন। যা এখন বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। যদিও কালের আবহমানে বাংলোটি আজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দৃষ্টিনন্দন এ বাংলোটি ২০২৩ সালে একবার রেলওয়ের পক্ষ থেকে সংস্কার করা হলেও বড় ধরনের তেমন কোনো সংস্কার হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলোটির সামনে ও পেছনের অংশ মিলিয়ে মোট ১২টি গোলআকৃতির জানালা আছে। এছাড়া হাতির শুঁড়ের আদলে নির্মিত বারান্দার দু’পাশেও আছে গোলাকার দুটো ছিদ্র, যা দেখতে অনেকটাই হাতির চোখের মতো। ডুপ্লেঙ এই ভবনের নীচতলায় ৪টি ও দোতলায় একটি শয়নকক্ষ আছে। বর্তমানে স্থাপনাটির সবকটি দরজা–জানালাই ভেঙে পড়ার পাশাপাশি মরিচা ধরেছে।
হাতির আদলে নির্মিত এ ডুপ্লেঙ বাড়িটি সাধারণ লোকজনের কাছে ‘হাতি বাংলো’ নামে পরিচিত। সিআরবি রেলওয়ে পুলিশ সুপারের বাংলোর পাশে হাতি বাংলোটির দুইপাশে দুইটি করে চারটি এবং সামনে এবং পেছনে তিনটি করে ছয়টি জানালা রয়েছে। জানালাগুলোও গোলাকার। বাংলোর সামনের দিকে হাতির সুড়ের মত যে বারান্দাটি রয়েছে সেটিতেও গোলাকার দুইটি ফুটো রয়েছে। যা দেখতে অনেকটা হাতির চোখের মত। ভবনটির নিচতলায় দুইটি এবং উপরে একটি কক্ষ রয়েছে। প্রকৌশলী ব্রাউনজার উত্তরমুখী এই বাংলোতে থাকতেন। পরবর্তীতে ডরমেটরি হিসেবে ব্যবহার হত। হাতির গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে এই স্থাপনাতেও ধূসর রং করা হয়, তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের রং পুরোটাই এখন বিবর্ণ ধারণ করেছে। নান্দনিক এই স্থাপত্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে এটি দর্শনার্থীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।


