প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সঞ্চয়ের পথে বড় বাধা আমাদের মনের একটি প্রবণতা হলো আমরা দীর্ঘমেয়াদি লাভের তুলনায় তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। যেমন, বেতন বাড়ার পর অনেকেই অবসরকালীন সঞ্চয় বাড়ানোর বদলে নতুন গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। এতে শেষ পর্যন্ত আগেভাগে অবসর নেয়ার সুযোগটাই দূরে সরে যায়।
আবার, আর্থিক চাপও সঞ্চয়ের পথে বাধা হতে পারে। কেউ চাপের মুখে বেশি সঞ্চয় করেন, কেউ আবার বেশি খরচ করে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই স্বল্পদৃষ্টির সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অর্জনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষ করে চক্রবৃদ্ধি সুদের কারণে।
তাহলে প্রলোভনের মুহূর্তে কীভাবে সঞ্চয় চালিয়ে যাবেন, তা দেখে নেয়া যাক।
১। উদ্দেশ্য নিয়ে নিরীক্ষা চালান
প্রথমে বসে লিখে ফেলুন—আপনি ঠিক কোন উদ্দেশ্যে সঞ্চয় করছেন। প্রয়োজনে আর্থিক লক্ষ্য খুঁজে বের করার কৌশল ব্যবহার করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নিরাপত্তা (যেমন অবসর) বা আত্ম-উপলব্ধি (যেমন ব্যবসা শুরু, দান) সম্পর্কিত লক্ষ্য সঞ্চয়ে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা জোগায়।
আপনার স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যগুলোকে বড় লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করুন। যেমন—‘বাড়ি মেরামতের জন্য সঞ্চয়’ ও ‘দান করার ইচ্ছা’ একসঙ্গে মেলাতে পারেন। বাড়ি মেরামতের পর অতিরিক্ত সঞ্চিত অর্থ কোনো দাতব্য সংস্থায় দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া যেতে পারে। এতে লক্ষ্য অর্থবহ হয়ে উঠবে এবং মনোবল হারালে পুনরায় অনুপ্রাণিত হওয়ায় সম্ভব।
২। কতটা সঞ্চয় করা সম্ভব ও প্রয়োজন, তা হিসাব করুন
আর্থিক চাপের সময় আমরা প্রায়ই ভাবি, বর্তমান সব খরচই জরুরি। ফলে সঞ্চয়ের পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। তাই শুরু করুন বাজেট পর্যালোচনা দিয়ে। প্রতিমাসে কত আয়, কত ব্যয়, এবং ব্যয় কোথায় হচ্ছে তা লিখে ফেলুন।
যদি মাসিক উদ্বৃত্ত না থাকে, ব্যয়ের খাতগুলো খুঁজে বের করুন যেখানে কাটছাঁট সম্ভব।
একটি বাস্তব চিত্র পেতে হিসাব করুন, আপনার কাঙ্ক্ষিত সময়ে লক্ষ্য পূরণ করতে হলে মাসে কত সঞ্চয় করতে হবে। এতে বেশি বা কম সঞ্চয়ের প্রভাবও স্পষ্ট হবে। মনে রাখবেন, এখন যতটা সম্ভব সঞ্চয় করাই যথেষ্ট। পরিস্থিতি বদলালে পুনরায় হিসাব করুন।
৩। সঞ্চয়কে স্বয়ংক্রিয় করুন
প্রতিমাসে নিজ হাতে টাকা সঞ্চয়ী হিসাবে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়া মানেই কোনো না কোনো সময় ভুলে যাওয়া, পিছিয়ে দেয়া বা খরচ করে ফেলা। তাই সঞ্চয়কে যতটা সম্ভব সহজ করে তুলুন অটোমেটিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে।
গবেষণা বলছে, সঞ্চয় স্বয়ংক্রিয় করলে মানুষ সাধারণত বেশি সঞ্চয় করেন। এখন সামান্য সময় দিয়ে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া চালু করলে তা দীর্ঘ সময় সঞ্চয়ের অভ্যাস ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
এপি অবলম্বনে


