প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের ২৩৭টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১০টিতে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা করা হয়নি ৬টি আসনের প্রার্থীর নাম। এর মধ্যে একটি আসনে জোটকে ছেড়ে দেয়া হবে। একটিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আপাতত ঘোষণা করা হয়নি। সেটিসহ ৫ আসনে পরবর্তী ধাপে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যেসব আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি সেখানে বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছে এমন দলগুলো থেকে আসতে পারে। অথবা আমরাও চেঞ্জ করতে পারি। আমরা যেটা ঘোষণা করলাম এটা সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা। স্থায়ী কমিটি যে কোনো সময় প্রয়োজনে এটা পরিবর্তন করতে পারে।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রাম–১৪ আসনটি জোটকে ছেড়ে দেয়া হবে। বাকি আসনগুলোতে দ্বিতীয় ধাপে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
জোটের জন্য বরাদ্দ চট্টগ্রাম–১৪ :
জোটগতভাবে নির্বাচন করলে চট্টগ্রাম–১৪ আসনটি (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) শরীকদল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ছেড়ে দিবে বিএনপি। তাই গতকাল এ আসনে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী ও বাকলিয়া), চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট), এবং চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগড়া ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনেও দলের কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। অর্থাৎ এই ৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অপেক্ষা বেড়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম–৯ আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের নাম গতকাল ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম স্থগিত রাখা হয়েছে জানিয়ে বলেন, এটা পরে ঘোষণা করা হবে। আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আছেন সিটি মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলম, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, নগর বিএনপির যুগ্ম–আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম এবং নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল।
এছাড়া চট্টগ্রাম –১১ আসনে নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান ও বিএনপির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপ–কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম–৬ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আছেন সাবেক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার।
পুরাতন মুখ ৫ আসনে – চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং–পাহাড়তলী–হালিশহর–খুলশী) আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও–পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ (আংশিক) আসনে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম ও চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম।
নতুন মুখ : চট্টগ্রাম–২ (ফটিছড়িতে) আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড ও চসিকের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিন, চট্টগ্রাম– ৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরা সবাই নতুন।


