প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রাম মহানগরীতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক এক জরিপে নগরীর কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজনন তুলনামূলক বেশি শনাক্ত হওয়ায় ৮টি ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৮ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী পরিচালিত জরিপে স্বাস্থ্য বিভাগের চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল নগরীর ১৮টি ওয়ার্ডের ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করে।
জরিপে ৯৯টি বাড়িতে এবং পরীক্ষা করা ৩৪৫টি পানির পাত্রের মধ্যে ১১৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। শনাক্ত হওয়া লার্ভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির।
জরিপে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত তিনটি সূচকেই চট্টগ্রামকে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পাওয়া গেছে। হাউজ ইনডেক্স ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা ৫ শতাংশের নিচে থাকার কথা।
ব্রেটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা স্বাভাবিক সীমা ২০ শতাংশের চেয়ে বেশি। এছাড়া কন্টেইনার ইনডেক্স ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ, যেখানে ১০ শতাংশের বেশি হারকেই উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে উত্তর কাট্টলী (ওয়ার্ড-১০), পাঁচলাইশ (ওয়ার্ড-৩), জালালাবাদ (ওয়ার্ড-২), পশ্চিম বাকলিয়া (ওয়ার্ড-১৭), দক্ষিণ বাকলিয়া (ওয়ার্ড-১৯), দক্ষিণ হালিশহর (ওয়ার্ড-৩৯), পাথরঘাটা (ওয়ার্ড-৩৪) এবং আন্দরকিল্লা (ওয়ার্ড-৩২) ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাসাবাড়ির প্লাস্টিক সামগ্রী, ড্রাম, পানির ট্যাংক, নির্মাণাধীন ভবনের লিফট হোল ও আন্ডারগ্রাউন্ডে সবচেয়ে বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের কিছু আবর্জনা পরিবহনকারী গাড়িতেও এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যক্রম আরও জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে।


