প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
থাইল্যান্ডে ১৯ দিনের ‘মিস ইউনিভার্স’ মিশন- তার আগে-পরে আরও নয় দিন মিলিয়ে প্রায় চার সপ্তাহই দেশ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ-২০২৪-এর চ্যাম্পিয়ন তানজিয়া জামান মিথিলাকে। দীর্ঘ এ সফর শেষে তিনি গত মঙ্গলবার বিকালে দেশে ফিরেছেন। ফিরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে জানালেন, প্রতিযোগিতা চলাকালে দেশের মানুষ ও বিনোদনজগতের যারা তার পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।
চূড়ান্ত মুকুট জিততে না পারলেও সেরা-৩০-এ জায়গা পাওয়া নিয়ে খুশি মিথিলা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটাকেই তিনি বড় অর্জন মনে করছেন। ৭৪তম মিস ইউনিভার্স আসরে অংশ নিতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তিনি থাইল্যান্ডে যান। ২ নভেম্বর থেকে শুরু হয় ক্যাম্প রাউন্ড। শুরু থেকেই স্বপ্ন ছিল ভালো কিছু করার, মনে জাগিয়েছিলেন সম্ভাবনার আলোও। তবে শেষ পর্যন্ত সেরা-৩০-এ থামতে হয়েছে তাকে।
তবে একটি দিক তাকে বাড়তি তৃপ্তির অনুভূতি দিয়েছে ক্লোজডোর ভোটিংয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন এবারের মুকুটজয়ী মেক্সিকোর ফাতিমা বশকে। এই ফল তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে, সামনে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণাও দিয়েছে। মিথিলা বলেন, ‘প্রথম ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে ঠিকঠাক উপস্থাপন। বাংলাদেশের পতাকা বহন করছি। বাংলাদেশকে উপস্থাপনের জন্য যত কষ্ট করা দরকার, পরিশ্রম করা দরকার- তা আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত করে গেছি। আমার এই পথচলায় প্রথম সারির তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই আমার প্রতি যে বিশ্বাস, ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তাতে আমি অভিভূত।’ বিমানবন্দরে নেমে মিথিলা বললেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে যতটা অবস্থান করা সম্ভব, তা আমি চেষ্টা করেছি। আমি এটা উপলব্ধি করতে পেরেছি, এ ক্ষেত্রটায় আমাদের আরও অনেক বেশি কাজ করতে হবে, যাতে পরে যে প্রতিযোগী এই প্লাটফর্মে অংশ নেবে, তার জন্য পথচলাটা যেন সহজ হয়।’ এবারের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে বিশ্বের ১২১ দেশের প্রতিযোগী।
মিথিলা বললেন, ‘এটা এমন একটা প্রতিযোগিতা, যেখানে ৫০ থেকে ৬০ বছর চেষ্টা করেও অনেক দেশ আছে তারা পজিশন পায়নি। এমন উদাহরণ অনেক আছে। তারপরও তারা অংশ নিচ্ছে। আমি যেটা দেখেছি, একটা দেশের সরকারি পর্যায়ে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক থাকতে হয়। দেশের মানুষের সমর্থন থাকতে হয়, যেটা আমি আন্তরিকভাবে পেয়েছি। আমরা আশা করছি, পরবর্তী সময়ে যেসব প্রতিযোগী যাবে, তাদের আমরা সহযোগিতা করতে পারব, পরামর্শ দিতে পারব। আমরা এবার কিন্তু এক রকম দেখিয়ে দিয়েছি, বাংলাদেশিরা চাইলে একসঙ্গে কী করতে পারি। যারা প্রতিযোগিতায় আমাকে ভোট দিয়েছেন, সত্যি বলতে তারা আসলে আমাকে দেননি, দিয়েছেন বাংলাদেশকে। আমি নিজেও মিথিলাকে রিপ্রেজেন্ট করতে যাইনি, বাংলাদেশকে করেছি।
বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরতে গিয়েছি।’ বললেন, ‘এর আগে অনেকবার অনেক দেশে গিয়েছি। এসেছি। কিন্তু এবার বিমানবন্দরে এসে এমন অনুভূতি হয়েছে, যা এর আগে কখনও হয়নি। আমি খুবই ইমোশনাল। সবাই আমাকে এভাবে ভালোবাসবে, এভাবে বিশ্বাস করবেÑ কখনও কল্পনাই করিনি। প্রথমবারের মতো আমি বুঝতে পেরেছি, বাংলাদেশ কত বড় দেশ। কত মানুষের আবেগ নিয়ে আমি ওখানে কাজ করে এসেছি। এই পথচলায় আমি শিখলাম, আমরা বাংলাদেশিরা কতটা শক্তিশালী। আমরা চাইলে কী না করতে পারি। বাংলাদেশের একজন প্রতিযোগীর জন্য ২০ লাখ ভোট করেছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার।


