প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মো. ওমর ফারুক।
আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাটহাজারী মডেল থানাধীন হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বরে ছাত্র–জনতার ওপর গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হাটহাজারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর–১, তারিখ: ২ অক্টোবর ২০২৪)।
মামলার এক নম্বর আসামি করা হয় সাবেক এমপি আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে। তিনি চট্টগ্রাম-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং স্বৈরাচারী সরকারের একজন সক্রিয় সহযোগী হিসেবে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনকারীর দাবি, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এখনো গ্রেপ্তার হননি। বরং পলাতক অবস্থায় থেকেও তিনি ও তাঁর অনুসারীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
এতে নিহতের পরিবারসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে—আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সম্প্রতি হাটহাজারী এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন। এতে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আবেদনকারীর মতে, একটি স্বাধীন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে এভাবে প্রকাশ্যে একজন হত্যা মামলার আসামির ঘুরে বেড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ের ওই ঘটনার পাশাপাশি আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানার মামলা নম্বর ১৫ (০৯) ২০২৪, হাটহাজারী থানার মামলা নম্বর ২ (১১) ২০২৪ এবং কোতোয়ালী থানার মামলা নম্বর ১২ (১১) ২০২৪-সহ একাধিক মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।
মো. ওমর ফারুক আবেদনে বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। খুনের মামলার আসামিরা যদি বিনা বিচারে পার পেয়ে যায়, তাহলে তা শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা হবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
আবেদনকারী দ্রুততম সময়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আবেদনের অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির কাছেও পাঠানো হয়েছে।


