শনিবার, মে ২, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেপার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বুঝে নিলেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বুঝে নিলেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান  ও প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন মন্ত্রণালয়ে আজ দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান : ২০০১ সালে রাঙামাটি বিএনপিতে ‘নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে’ দলের চেয়ারপারসান বেগম খালেদা জিয়ার ‘ডাকে’ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে আছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ–ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জিতেছেন ধানের শীষ প্রতীকে। হলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীও।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর পার্বত্য রাঙামাটি আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে দীপংকর জনসংহতি সমিতি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতন তালুকদারের কাছে হেরে যাওয়ায় প্রতিমন্ত্রী হন বান্দরবান থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং। এরপর টানা দুই মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী থাকার পর ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী হন খাগড়াছড়ির কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এক যুগ পর মন্ত্রী পেল পার্বত্য জেলা রাঙামাটির মানুষ। পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ানও এক সময় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা ছিলেন। পারিবারিকভাবেই রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান দীপেন। সুবিমল দেওয়ানের সুবাধে দীপেন দেওয়ানের রাঙামাটি শহরের নিজ পাড়াটি ‘মন্ত্রীপাড়া’ হিসেবে পরিচিত। তবে এবার মন্ত্রী পেল মন্ত্রীপাড়াও।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী- বায়েজীদ আংশিক) থেকে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথমবারেই ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন মন্ত্রীসভায় স্থান পেলেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি একটি প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান।

মীর হেলালের জন্ম ১৯৮২ সালের ১২ আগস্ট চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মীরেরখিল এলাকার মীরবাড়িতে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি উচ্চ শিক্ষিত। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে এলএলবি (অনার্স), বার ভোকেশনাল কোর্স (ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন, যুক্তরাজ্য) ব্যারিস্টার এট ল (লিংকনস ইন, যুক্তরাজ্য) থেকে করেছেন।

আইন পেশায় যুক্ত মীর হেলাল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের তালিকাভুক্ত আইনজীবী। তিনি ল ফার্ম ‘দ্য লয়ার্স কাউন্সিল’-এর হেড অব চেম্বার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মীর হেলালের বাবা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

তরুণ নেতা হিসেবে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারই মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় হেলালের অনুসারী ও সাধারণ নেতা কর্মীরা বেশ উচ্ছ্বসিত। হাটহাজারীতে বইছে উৎসবের আমেজ।

বিএনপি এবার মন্ত্রিসভায় তারুণ্যকে মূল্যায়ন করবে, এমন জল্পনা ছিল সকলের মধ্যে। সেক্ষেত্রে তরুণ সংসদ সদস্যদের দলের প্রতি অবদানের পাশাপাশি শিক্ষাসহ বিভিন্ন যোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে, এমন ধারনা ছিল সকলের। চট্টগ্রাম থেকে আলোচনায় থাকা তরুণের মধ্যে মীর হেলালের নাম উঠে এসেছিল। সব জল্পনা-কল্পনাকে সত্য প্রমানিত করে মন্ত্রী সভায় স্থান করে নিলেন তিনি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসনে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বড় ব্যবধানে জয়ী হন। হাটহাজারী উপজেলা ও বায়েজিদ আংশিক নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৪৩টি কেন্দ্রে তিনি পান ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির পান ৪৪ হাজার ভোট।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়