শনিবার, মে ২, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাবাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

ভারত সরকার আবারও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) বলেছে, ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় নিতে উভয় দেশই আগ্রহী।

Advertisement

নয়াদিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত— সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।

ভারতের সংসদের স্পিকার ওম বিড়লা সম্প্রতি এক আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত পার্লামেন্টারি সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক শক্তিশালী হলে দ্বিপাক্ষিক বন্ধন আরও টেকসই হবে। এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরেও কূটনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে, যদিও দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস দমন, নদীর পানিবণ্টন ও আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি জোরদার করাও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভারত সরকারের এ পুনর্ব্যক্ত অঙ্গীকারকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে তারা মনে করছেন, ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তবায়নই হবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের আসল পরীক্ষার ক্ষেত্র।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়