মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬
spot_img
Homeসংবাদনির্বাচন-পরবর্তী পোশাক খাতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ

নির্বাচন-পরবর্তী পোশাক খাতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জয়ের পর বিএনপি’র সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে দেশের স্থবির অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্ব। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে স্বাগত জানালেও ভোটাররা নতুন সরকারকে বিচার করবেন—তারা কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে পারে তার ওপর ভিত্তি করে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ’র বরাতে সাউথ চায়না মর্নিং জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৩.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। যা আগের বছরের ৪.২ শতাংশ এবং ২০২৩ অর্থবছরের ৫.৮ শতাংশ থেকে কম। তবে চলতি ও পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে।

কাউন্টারপয়েন্ট-এর সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, ‘আমরা যেন ভুলে না যাই—এটাই ছিল সেই আন্দোলনের একটি প্রধান চালিকাশক্তি, যার ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। বর্তমান সরকার তরুণদের জন্য আরও চাকরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তারা কতদিন ‘হানিমুন পিরিয়ড’ পাবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে, তবে তা চিরস্থায়ী হবে না।’

তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারকে আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বৃহস্পতিবার এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিউট আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আফটার দ্য ভোট: ডেমোক্রেসি, রিফর্ম ও ফরেইন পলিসি আউটলুক’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার উচিত মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং খেলাপি ঋণের হার কমানোর দিকে নজর দেওয়া।

নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসন পায়, আর প্রধান বিরোধী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৭৭টি আসন। ২০২৪ সালে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ছিল প্রথম জাতীয় ভোট।

গত কয়েক দশকে যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বছরে ৬-৭ শতাংশ ছিল, সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরগতির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন।

ওয়েবিনারে বিশ্লেষকরা বলেন, নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমানের অভিজ্ঞতা দেশকে এই কঠিন সময় অতিক্রমে সহায়তা করতে পারে।

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত শহীদ আখতার বলেন, নতুন সরকারে ‘জ্যেষ্ঠ ও জেনারেশন জেডের প্রতিনিধিদের ভালো সমন্বয়’ রয়েছে এবং মন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মেধার প্রতিফলন দেখা গেছে।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাভাবিকীকরণ এখনও অনেক দূরের পথ। যদিও বড় ধরনের সহিংসতা ও সরবরাহ বিঘ্ন অনেকটাই কমেছে, তবু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা এবং বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বিক্ষোভ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগও মন্থর রয়েছে।

তবে মুডিস ইতিবাচক দিকও উল্লেখ করেছে—ব্যাংক ও সংসদে সুশাসন জোরদার এবং বিনিময় হার আরও নমনীয় করার অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অক্সফোর্ড ইকোনোমিকস জানায়, বিএনপি বাজারমুখী অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখবে, যদিও বাস্তবায়নে ঝুঁকি রয়েছে।

একটি বড় উদ্বেগ হলো—নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ করবে। এর ফলে বাণিজ্য সুবিধা প্রত্যাহার হলে রপ্তানি আয়ে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদায় বাংলাদেশ বহু বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নমনীয় বিধি উপভোগ করেছে, যা তৈরি পোশাক খাতকে শক্তিশালী করেছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ আলেক্সান্দ্রা হারম্যান বলেন, মর্যাদা পরিবর্তনের পর বাংলাদেশকে ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশের সঙ্গে সরাসরি ব্যয় ও মানসম্মত প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে পদক্ষেপ নেবেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ শ্রীরাধা দত্ত বলেন, দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পরও প্রকাশ্য বৈরিতার লক্ষণ দেখা যায়নি।

২০২৪ সালে হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এবং উভয় দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ঢাকা নয়াদিল্লিকে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানিয়েছে। নভেম্বরে একটি বাংলাদেশি ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অনুপস্থিত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। দত্ত বলেন, দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে—‘আমাদের একসঙ্গে করার মতো অনেক কিছু আছে। মিলের জায়গাগুলোয় আমাদের এক হতে হবে।’

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়