বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেচীন থেকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ সরকারের, ভারত থেকে বাড়ছে ডিজেল আমদানি

চীন থেকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ সরকারের, ভারত থেকে বাড়ছে ডিজেল আমদানি

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চীনা রিফাইনারি থেকে জ্বালানি রপ্তানিতে বিধিনিষেধের খবরের পর পূর্বনির্ধারিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল (১০ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই অনুরোধ করা হয়। বৈঠকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, দুইজন সচিব এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল রপ্তানি করে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আগামী ১৩ থেকে ২৯ মার্চের মধ্যে প্রতিটি ৩০ হাজার টন করে অন্তত তিনটি ডিজেলের চালান পাওয়ার কথা।

এই বিধিনিষেধের পর বিপিসি জানিয়েছে, ওই চালানগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণ দেখিয়ে অন্যান্য সরবরাহকারীরাও জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের অনুরোধ করার পর রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে বিপিসি ও চীনা সরবরাহকারীদের মধ্যে আগে নির্ধারিত জ্বালানি আমদানি পরিকল্পনা ভাগাভাগি করার পরামর্শ দেন।

চীনা দূতের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জ্বালানি বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত জ্বালানির সরবরাহের সময়সূচি ও পরিমাণের বিস্তারিত দিলে রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়টি চীনা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

পরে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষেরই প্রস্তাব রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায় এবং সে বিষয়ে সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

ওয়েন আরও বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি চীন উত্থাপন করেছে, বিশেষ করে সৌর জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশ চলমান জ্বালানি সংকটের বিষয়টি তুলেছে কি না জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘হ্যাঁ। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি, তবে এ বিষয়ে এখন মন্তব্য করার অবস্থানে আমি নেই।’

জ্বালানি বিভাগের সূত্র দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছে, চীনা কোম্পানিগুলোর সরবরাহ অনিশ্চয়তার বিষয়টি বৈঠকে তুলেছেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

ভারত থেকে ৫,০০০ টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে

এদিকে জ্বালানি বাজারে ‘প্যানিক বায়িং’ (আতঙ্কজনিত কেনাকাটা) ও উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে গতকাল ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর আগের দিন বিপিসি ২৭ হাজার টনের বেশি ডিজেল আমদানি করেছিল।

ভারত থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিপিসির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রেজানুর রহমান।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আজ ভারত থেকে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল পাবে বিপিসি। ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল আসবে। পাইপলাইনটি ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত, যা দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ডিজেল পরিবহনের সুযোগ তৈরি করেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সরবরাহ সময়সীমার জন্য বিপিসি ও ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারি নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের মধ্যে পূর্বের চুক্তির আওতায় এই ডিজেল আমদানি হচ্ছে।

এর আগে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে ভারতের কাছে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ।

বিপিসি ও নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের চুক্তি অনুযায়ী, সীমান্ত-পারাপারের পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করার কথা।

এই পরিমাণের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে, আর চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন আমদানির সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ২০২৩ সালের মার্চে এই পাইপলাইন উদ্বোধন করা হয়। বছরে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে এই পাইপলাইনের।

তিনি বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে ভারত থেকে অন্তত ৯০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে আমদানি হওয়ার কথা।’

বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) যে চালানটি আসছে তা ৫ হাজার টনের। আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যে ছয় মাসের জন্য নির্ধারিত পুরো ডিজেলের পরিমাণ আমরা দেশে আনতে পারব।’

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়