Wednesday, June 24, 2026
spot_img
Homeএই মুহুর্তেতেহরানে প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে ওয়াশিংটন, যাচাই করছে ইরান

তেহরানে প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে ওয়াশিংটন, যাচাই করছে ইরান

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা শুরুর আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি বার্তা ওয়াশিংটন থেকে তেহরানের কাছে পৌঁছেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল সোমবার সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—একটি চুক্তি সম্ভব হতে পারে। তবে তিনি কোনো নিশ্চয়তা দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাবনা পেয়েছি এবং সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’ তবে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। এমনকি সেই বার্তার বিষয়বস্তু কি ছিল তাও জানাননি।

এর আগে, গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘বৈরিতা সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে নিরসনের বিষয়ে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ১৫টি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ‘তারা শান্তি চায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’

সপ্তাহান্তে ইরানকে দেওয়া একটি আল্টিমেটাম থেকেও সরে আসেন ট্রাম্প। সেই আল্টিমেটামে বলা হয়েছিল, ইরানকে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে, নতুবা তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প বলেন, চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করে ৫ দিনের জন্য ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বোমা হামলা স্থগিত রাখবে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আলোচনা হচ্ছে বলে অস্বীকার করেছিল। কিন্তু ট্রাম্পের মন্তব্যে ২৩ দিন ধরে চলা সংঘাত শেষের দিকে এগোচ্ছে এমন আশা তৈরি হয়। এ খবরের পর সোমবার আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ শতাংশ কমে যায় এবং এসঅ্যান্ডপি–৫০০ সূচক ১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং ঐতিহাসিকভাবে তারা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ করে থাকে, যেখানে অঞ্চলের অন্য দেশগুলো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। সিবিএস নিউজ জানায়, পাকিস্তান নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। ওমানও দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করে আসছে; চলতি বছরের শুরুতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনায়ও দেশটি ভূমিকা রাখে।

সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘একজন শীর্ষ ব্যক্তির’ সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে নয়। তিনি ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান, ‘কারণ আমি চাই না তাঁকে হত্যা করা হোক।’

সম্ভাব্য কোনো চুক্তির কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘সম্মত হয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না’, যা যুদ্ধের শুরুতে ঘোষিত মার্কিন লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল; আরেকটি লক্ষ্য ছিল ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আগ্রহ থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। তবে চলতি বছরের শুরুতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরান যেন সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, যা তেহরান দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তিতে ইসরায়েল থাকবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। তবে দেশটিকে কতটা ব্যাপকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, তা নিয়ে দুই মিত্রের মধ্যে মাঝে মাঝে মতপার্থক্য দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, ইরানের একটি বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলায় তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়