সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
spot_img
Homeসংবাদযেসব শর্তে ইতিবাচক সাড়া পেলে ইসলামাবাদে আসতে রাজি ইরান

যেসব শর্তে ইতিবাচক সাড়া পেলে ইসলামাবাদে আসতে রাজি ইরান

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে তাঁর প্রতিনিধি দল পাকিস্তান যাচ্ছে। এবং আজ সোমবার অথবা আগামীকাল মঙ্গলবার এই আলোচনা হতে পারে বলে খবর ছিল। কিন্তু ইরান তাদের দুটি দাবিতে অনড়। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে ‘যুদ্ধক্ষেত্রের ধারাবাহিকতা’ হিসেবেই দেখছে এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও জব্দ সম্পদ মুক্তির দাবিতে অনড় তারা।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরান তাদের পূর্বশর্তে এখনো অনড়। তিনি বলেন, ‘লেবাননের বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জব্দ করা সম্পদ মুক্তির বিষয়টিও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পূর্বশর্তগুলোর একটি। স্বাভাবিকভাবেই, ইসলামি প্রজাতন্ত্র এখনো এসব মূলনীতির ওপর দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে।’

এই শর্তগুলো মানা না হলে পরিণতি খারাপ হবে বলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেন আজিজি। তিনি বলেন, ‘যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় যা রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়—যা আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রেরই অংশ—অথবা তারা যদি পূর্বের প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে না চলে, তাহলে সেটির অর্থ হবে তারা ইরানের পূর্বশর্তগুলো গ্রহণ করেনি এবং স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়বে।’

ইব্রাহিম আজিজি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের পদক্ষেপ কঠোরভাবে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় তেহরান অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আজিজি বলেন, ‘ইরান জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই কাজ করে’ এবং দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন, তাই করবে।

তিনি আলোচনায় অংশগ্রহণকে দেশের যুদ্ধক্ষেত্রের প্রচেষ্টারই একটি সম্প্রসারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান আলোচনাগুলোকে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখি, এবং এর বাইরে আমরা কিছুই দেখি না। যদি এটি যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে, তাহলে আলোচনার ক্ষেত্রও আমাদের জন্য একটি সুযোগ… কিন্তু যদি আমেরিকানরা তাদের দাদাগিরির কৌশলের ভিত্তিতে এটিকে অতিরিক্ত দাবি চাপিয়ে দেওয়ার মঞ্চে পরিণত করতে চায়, তাহলে নয়।’

শীর্ষ এই আইনপ্রণেতা বলছেন, ইরান আলোচনা চালিয়ে যাবে, তবে নিজেদের ‘রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা’ নির্ধারণ করেছে। আইআরজিসির সাবেক এই কমান্ডার বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ‘যেকোনো মূল্যে আলোচনা’ করা হবে বা ‘অন্য পক্ষ যে কোনো কৌশল গ্রহণ করলে তা মেনে নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ইরান কিছু ‘চূড়ান্ত সীমা’ নির্ধারণ করেছে, এবং সেগুলো ‘অবশ্যই মেনে চলতে হবে।’

ইরান ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আজিজি ইঙ্গিত দেন, এটি নির্ভর করবে তেহরান ইতিবাচক কোনো সংকেত পায় কি না তার ওপর। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো আলোচনার মূলনীতিকে ভয় পাইনি। হয়তো আজ বা আগামীকাল, আরও মূল্যায়নের পর আমরা এটিকে সম্ভাব্য মনে করতে পারি—যদি আমেরিকান আলোচক দল এবং তারা ইরান থেকে যে বার্তা পেয়েছে, তা ইতিবাচক সংকেত দেয়।’

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়