রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতা‘সব ধর্মই শান্তি ও মানবকল্যাণের কথা বলে’

‘সব ধর্মই শান্তি ও মানবকল্যাণের কথা বলে’

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে নগরে আয়োজিত আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্রয়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহে এর দিক নির্দেশনা’ শীর্ষক এ সম্মিলনের আয়োজন করে মাইজভাণ্ডারী একাডেমি।

ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারিয়ার প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) জন্মদ্বিশতবার্ষিকী ও পবিত্র উরস শরীফ উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, বিশ্বের প্রতিটি ধর্মই মূলত মানুষকে দেশপ্রেম, শান্তি, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের পথে আহ্বান জানায়।

ইসলাম ধর্ম বিশেষভাবে সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা দেয়। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বা উগ্রতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সমাজে বিভেদ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দেয়, তারা মূলত মানবসভ্যতার শত্রু। এ ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির বিকল্প নেই।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান বিভাজন ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও বোঝাপড়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধারণ করে যদি সমাজ পরিচালিত হয়, তবে সেখানে ন্যায়, সাম্য ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এ ধরনের সম্প্রীতি সম্মিলন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলোচনায় অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা ও সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে সহিংসতা, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আগ্রাসী মানসিকতা। মানুষের মন থেকে এই নেতিবাচক চিন্তাধারা দূর করতে না পারলে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ধর্ম ও নৈতিকতা মানুষের জীবনে অপরিহার্য-যেমন দেহ ছাড়া মন কল্পনা করা যায় না, তেমনি নৈতিকতা ছাড়া উন্নত সমাজ গঠনও অসম্ভব। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মাধ্যমে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী রবীশ্বরান্দ পুরী বলেন, সব ধর্মেই সহাবস্থান ও মানবতার শিক্ষা থাকলেও বাস্তবতায় এখনো বিদ্বেষ ও বিভাজনের প্রবণতা রয়ে গেছে। আজকের বিশ্বে ন্যায়বোধ, ভ্রাতৃত্ব, সংযম ও সহিষ্ণুতার মারাত্মক অভাব দেখা যাচ্ছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সব ধর্মের মূল লক্ষ্য ও গন্তব্য এক-মানবকল্যাণ। তাই বিভেদ ভুলে সকলকে ঐক্যের পথে এগিয়ে আসতে হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, প্রায় সব ধর্মগ্রন্থেই ন্যায়পরায়ণতা, সততা, দয়া, পরোপকার ও মানবিকতার মতো সার্বজনীন মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অভিন্ন নৈতিক ভিত্তিই বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের পথ তৈরি করে। এছাড়া ধর্মগ্রন্থগুলো মানুষকে সমান মর্যাদা প্রদান করে, যা একটি সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ, হামদ ও মাইজভাণ্ডারী সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়