প্রাইম ভিশন ডেস্ক
চট্টগ্রাম নগরী পানিতে ভাসছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০২৪ সালের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এই অপপ্রচারকে বাস্তব ধরে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করায় চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত ও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামের সরেজমিন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় তিনি গতকাল চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “মানুষ জানিয়েছেন যে, গত এক-দুই বছর আগের তুলনায় এখন জলাবদ্ধতা অনেক কমেছে। অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০২৪ সালের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে চট্টগ্রাম নগরী পানিতে ভাসছে বলে যে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। মূলত গত কয়েক দিনে ২২০ মিলিমিটার অতিবৃষ্টির কারণে মাত্র ৫টি স্থানে সাময়িক জলজট তৈরি হয়েছিল, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর উদারতার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সংসদে একজন সদস্যের বক্তব্য বা খবরের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এই বিষয়টি চট্টগ্রামবাসী অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। আমি যখন সরেজমিনে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেছি, তখন তারা জানিয়েছে যে আগের তুলনায় বর্তমানে জলাবদ্ধতা অনেক কমে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সংবেদনশীল আচরণ নগরবাসীকে আনন্দিত ও আশান্বিত করেছে।”
মীর শাহে আলম সংসদকে অবহিত করে বলেন, চট্টগ্রামের ৫৭টি খালের মধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৬টি খালের উন্নয়ন কাজ করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড। এর মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে এবং চলমান ৬টি খালের কাজে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি প্রবাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি আগামী ৫ দিনের মধ্যে ওই সব বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ সচল করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
জলাবদ্ধতা নিরসনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “আল্লাহর রহমতে যদি বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে আগামী বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সমন্বিত উদ্যোগের ফলে চট্টগ্রামবাসী খুব দ্রুতই এই সমস্যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী মুক্তি পাবে।”


