প্রাইম ভিশন ডেস্ক
একীভূত হওয়া ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংকের আলোচিত ‘হেয়ারকাট’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এসব ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের বিপরীতে আগের নির্ধারিত হারেই পুরো মুনাফা পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত এখন গভর্নরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গভর্নর অনুমোদন দিলে হেয়ারকাট বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “২০২৪ ও ২০২৫ সালে গ্রাহকদের আমানতের জন্য আগে যে মুনাফার হার নির্ধারিত ছিল, সেই হারেই তারা মুনাফা পাবেন। তবে ২০২৬ সাল থেকে পাঁচ ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ শতাংশ মুনাফা কার্যকর হবে।”
এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় বলেছিল, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কোনো আমানতের বিপরীতে মুনাফা দেওয়া হবে না।
পরে ২১ জানুয়ারি আরেক নির্দেশনায় বলা হয়, ওই সময়ের জন্য শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীদের ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনার পর দীর্ঘদিনের আমানতকারীরা আপত্তি জানান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
এর আগে গত ৭ জুলাই একীভূত হওয়া ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংকের আলোচিত ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছিলেন, আমানতকারীরা তাদের টাকা মুনাফাসহ ফেরত পাবেন। তবে এ জন্য কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।
জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের বিধিতে দেওয়া নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মালিকপক্ষ অর্থ পাচার ও লুটপাট করেছে। এর ফলে আমানতকারীরা তাদের টাকা তুলতে পারছেন না। এই টাকা তাদের কষ্টার্জিত। অন্যদিকে লুটেরা মালিকপক্ষ বিদেশে পালিয়ে গিয়ে নাকে সর্ষের তেল মেখে আরামে ঘুমাচ্ছে।”
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ৭৫ লাখ গ্রাহক সরকারের দিকে তাকিয়ে আছেন। ন্যায়বিচারের জন্য তারা রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাচ্ছেন।
আমির খসরু বলেন, “এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। একটি নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে নীরব থাকতে পারে না। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার একটি সুসংগঠিত ও বহুমাত্রিক রেজল্যুশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কাঠামোর আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমানতকারীরা তাদের টাকা মুনাফাসহ ফেরত পাবেন। তবে এ জন্য একটু ধৈর্য ধরতে হবে।”
পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে প্রশাসক
একীভূত হওয়া দুর্বল পাঁচ ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব ব্যাংক থেকে প্রশাসক তুলে নেওয়া হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহার করা হতে পারে।
গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রশাসক প্রত্যাহারের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তা একযোগে নয়, পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আগস্টের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”


