Homeএই মুহুর্তেজ্বালানি সংকট চলমান থাকলে ইন্টারনেট সেবায় বিপর্যয়ের শঙ্কা মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের

জ্বালানি সংকট চলমান থাকলে ইন্টারনেট সেবায় বিপর্যয়ের শঙ্কা মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের

প্রাইম ভিশন ডেস্ক

দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো ও ইন্টারনেট সেবাতেও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। আজ সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই শঙ্কার কথা জানায়।

বিবৃতিতে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেট মানুষের বিলাসিতা নয়; এটি শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং, সরকারি সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণমাধ্যম, যোগাযোগ এবং কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ডেটা সেন্টার, আইআইজি, আইএসপি, মোবাইল টাওয়ার ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবার ওপর।

মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন জানায়, মোবাইল টাওয়ার বা ইন্টারনেট অবকাঠামো বিদ্যুৎ ছাড়া দীর্ঘ সময় সচল রাখা অত্যন্ত কঠিন। অনেক স্থানে বিকল্প হিসেবে ব্যাটারি ও জেনারেটর ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থার সক্ষমতা সীমিত। জেনারেটর চালাতে ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি প্রয়োজন হয়। ফলে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে জ্বালানি সংকট—দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাব পড়লে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট অবকাঠামো ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু বাসাবাড়ির রাউটার বন্ধ হয় না; স্থানীয় নেটওয়ার্ক, অপটিক্যাল ফাইবারের সক্রিয় যন্ত্রপাতি, মোবাইল টাওয়ার, ব্যাকহল নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন ডেটা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়ে। ফলে গ্রাহক ইন্টারনেট সংযোগ পেলেও কাঙ্ক্ষিত গতি ও স্থিতিশীলতা পাচ্ছেন না।

ইন্টারনেট ধীর গতির কারণ হিসেবে শুধু মোবাইল অপারেটর বা আইএসপির (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স) ওপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে না বলে মনে করে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা ইন্টারনেট সেবার মানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ইন্টারনেট অবকাঠামোকে একটি ‘অত্যাবশ্যকীয় সেবা’ হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, দেশের প্রায় সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং, রাইড শেয়ারিং, অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন থেকে শুরু করে সরকারি ডিজিটাল সেবা—সবকিছুই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হলে এর অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সাতটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা; মোবাইল টাওয়ার, আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে), আইএসপি, ডেটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ব্যাকআপ পাওয়ার সক্ষমতা পর্যালোচনা করা, দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টেলিযোগাযোগ খাতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি করা; বিটিআরসি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ এবং টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের সমন্বয়ে ‘টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট জরুরি অবকাঠামো সুরক্ষা পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চাই না বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশকে আবার ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে হোক। বর্তমানে ইন্টারনেট একটি মৌলিক নাগরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো। তাই জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনায় ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ খাতকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়