প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
মে দিবসের ছুটিতে চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ডে বেড়াতে এসেছিল দুই বন্ধু মেহেরাজ ও সাব্বির। শুক্রবার (১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সাগর পাড়ে ঘুরছিলেন তারা। এক পর্যায়ে মেহেরাজ সাগরের ঢেউয়ে পা ভিজিয়ে সাগরে নেমে পড়ে। কিন্তু সেসময় প্রবল উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে তলিয়ে যায় সে।
চোখের সামনে মেহেরাজকে সাগরে তলিয়ে যেতে দেখে নিজেকে সামলাতে পারেনি সাব্বির। বন্ধুকে বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ দেয় সে। কিন্তু মেহেরাজকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে সাব্বিরও তলিয়ে যাবার উপক্রম হলে স্থানীয় জেলেরা এ দৃশ্য দেখে একটি লাল বোট নিয়ে দ্রুত এসে তাকে উদ্ধার করেন।
এদিকে অনেক খোঁজাখুজির দেড় ঘন্টা পর নিখোঁজ মেহেরাজকে পেয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মেহেরাজ হোসেন (১৯) চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ী গাজী ডিপো বাই লেন এলাকার অস্থায়ী বাসিন্দা মো. মোশারফ আলীর ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর আমতলী থানা এলাকসয়। মেহেরাজ চট্টগ্রাম এম.ই.এস কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।
বাঁশবাড়িয়া আকিলপুরের বাসিন্দা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. আনোয়ার বলেন, তারা দুই বন্ধু সাগর পাড়ে ঘুরছিল। এক পর্যায়ে মেহেরাজ পানিতে নামলে ঢেউয়ে তলিয়ে যায়। পরে তার বন্ধুটি তাকে বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু এখানে জেলে নৌকা এসে পরে ঝাঁপ দেয়া সাব্বিরকে তুলে নিলেও প্রায় দেড় ঘন্টা পর পাওয়া যায় মেহেরাজের লাশ।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫ টার দিকে বাশঁবাড়িয়া সি-বিচে পানিতে নেমে সাঁতার না জানার কারণে মেহেরাজ নামক এক কলেজছাত্র পানিতে ডুবে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেছেন। আমরা আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ তার পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছি।


