বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মালয়েশিয়ার বিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি পেরোডুয়া।
আজ বুধবার বাংলাদেশের বাজারে পর্দা উন্মোচন হলো নতুন মডেল পেরোডুয়া আরুজ (২০২৬) ব্ল্যাক এডিশনের। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পিএইচপি মোটরস লিমিটেডের সুবিশাল শোরুমে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই মডেলটির উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান এবং পিএইচপি মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আখতার পারভেজ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। দুই দেশের বাণিজ্য ও শিল্প সম্পর্কের জন্য এই আয়োজন একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সময় মালয়েশিয়ার দূতাবাস এবং পিএইচপি পরিবারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পিএইচপি মোটরস তেজগাঁও এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পেরোডুয়া আরুজ ২০২৬ ব্ল্যাক এডিশনের ডিজাইনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি একটি প্রিমিয়াম ৭-সিটার এসইউভি, যা আধুনিক চালকদের জন্য স্টাইল ও বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়েছে। ব্ল্যাক এডিশনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- গাঢ় কালো থিমের এক্সক্লুসিভ ডিজাইন, ইউনিক অ্যালয় হুইল, উন্নত ফিচারসমূহ এবং অধিক আরামদায়ক ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান বলেন, বাংলাদেশে পিএইচপি মোটরসের সঙ্গে মালয়েশিয়ার বিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। মালয়েশিয়ার প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মাহাতির মোহাম্মদের মাধ্যমে বাংলাদেশে যৌথভাবে কাজ শুরু করা হয়। পিএইচপি মোটরসের সঙ্গে কাজ করে আমরা অত্যন্ত খুশি। বাংলাদেশের মার্কেটে পিএইচপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামীতেও যেকোনো ধরনের সহযোগিতায় মালয়েশিয়া পিএইচপি মোটরসের পাশে থাকবে।
পিএইচপি মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আখতার পারভেজ বলেন, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় ব্রান্ড পেরোডুয়ার পরিসর বাড়ানো হচ্ছে। পেরোডুয়া মালয়েশিয়ার বিখ্যাত একটি ব্রান্ড, এই গাড়িতে রয়েছে টয়োটা ইঞ্জিন। কেবল ইঞ্জিন নয় এতে টয়োটার ডুয়েল ভিভিটিআই টেকনোলজি (যেটি ইঞ্জিনকে নিয়ন্ত্রণ করে) রয়েছে। যেটা টয়োটা ছাড়া অন্য কোন গাড়ি কোম্পানির কাছে নেই। সেই টেকনোলজি এই টয়োটা ইঞ্জিনের সাথে সেট করা আছে। এই গাড়ির যন্ত্রাংশগুলো টয়োটা গাড়ির যন্ত্রাংশের সঙ্গে পুরোপুরি মিল থাকায় গ্রাহকরা অনায়াসে যে কোন দোকান থেকে যন্ত্রাংশ কিনে ব্যবহার করতে পারবেন। তাই পেরোডুয়া গাড়ি কিনে যন্ত্রাংশের জন্য কোন ধরনের ঝামেলায় পড়তে হবে না।
মোহাম্মদ আখতার পারভেজ বলেন, ‘পেরোডুয়ার ফ্ল্যাগশিপ মডেল হচ্ছে আরুজ। আমাদের দেশে রাস্তার যে কন্ডিশন, এর জন্য গাড়িটি খুব ভালো পারফর্ম করবে। এই গাড়ির মাইলেজ খুবই ভালো। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই গাড়ির মাইলেজ প্রতি লিটারে ১৭-১৮ কিলোমিটার আমরা পেয়েছি।’
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে গাড়ি হস্তান্তর করা হয়। আরুজ ২০২৬ ব্ল্যাক এডিশনের প্রথম ইউনিটটি ভ্যালুড ক্লায়েন্ট আবদুল কাদের জিলন-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও লেটেস্ট পেরোডুয়া বেজা ২০২৬-এর চাবি হস্তান্তর করা হয় ক্লায়েন্ট জুয়েল রানার হাতে। এটি বাংলাদেশের প্যাসেঞ্জার কার বাজারে পেরোডুয়ার বাড়তি উপস্থিতিরই ইঙ্গিত দেয়। এসময় পিএইচপি অটোমোবাইলের পক্ষে নির্বাহি পরিয়াম কোয়ালিটির এই গাড়ি আধুনিক ডিজাউন ও উন্নত ফিচার নিয়ে এসেছে।


