কবিতা ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ফখরুল ইসলাম তারার স্মরণে ‘জীয়নকাঠি ফখরুল ইসলাম তারা উৎসব ২০২৬’। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডে মহিলা সমিতি নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশের অন্যতম প্রথমশ্রেণির আবৃত্তি সংগঠন স্রোত আবৃত্তি সংসদ।
মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কণ্ঠশিল্পী আশরাফুল আলম। স্রোত আবৃত্তি সংসদের সভাপতি মাহফুজ মাসুমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ রিজভীর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও তারা উৎসব কমিটির আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তাফা, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহারুল হক আজাদ, রাশেদ হাসান এবং ফখরুল ইসলাম তারার সহধর্মিণী রুখসানা ইসলাম।
এবারের উৎসবে ‘জীয়নকাঠি ফখরুল ইসলাম তারা পদক’ লাভ করে চট্টগ্রামের প্রমা আবৃত্তি সংগঠন এবং একক আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে পদক পান বৈকুণ্ঠ আবৃত্তি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাকিম তানভীর। পদকপ্রাপ্তদের সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। সংগঠনকে ত্রিশ হাজার এবং একক শিল্পীকে দশ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
উৎসবে দলগত আবৃত্তি পরিবেশন করে হৃদয়বৃত্তি সাংস্কৃতিক সংঘ, শিল্পবৃত্ত, গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি কাঁচার মেলা, শিমুলের পাঠশালা, স্রোত কিশলয় এবং প্রমা আবৃত্তি সংগঠন।
প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান জানান, সংগঠনটি ১৯৯০ সাল থেকে চট্টগ্রামে সাংগঠনিক আবৃত্তিচর্চা করে আসছে। এরই মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রধান শহরে দলীয় ও একক আবৃত্তি পরিবেশন করেছে দলটি। এর আগে স্বরকল্পন ও ঢাকা স্বনন আবৃত্তি সংগঠনের পক্ষ থেকেও সেরা আবৃত্তি সংগঠনের পদক অর্জন করেছে প্রমা। এই স্বীকৃতি দলকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্রোত আবৃত্তি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ রিজভী জানান, ফখরুল ইসলাম তারা একজন জনপ্রিয় ও প্রাজ্ঞ আবৃত্তিশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমেও ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ। স্রোত আবৃত্তি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রয়াত হন। তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ২০২৩ সাল থেকে প্রতি বছর এই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। উৎসবে একটি সেরা সংগঠন ও একজন নিবেদিতপ্রাণ আবৃত্তিশিল্পীকে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক দিয়ে উৎসাহিত করা হয় বলে তিনি জানান।


