প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
দেশে সিগারেটের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ ও মূল্য বৃদ্ধি করায় অবৈধ এবং রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। সংস্থাটির দাবি, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ৭০০ কোটি শলাকা অবৈধ সিগারেট ভোগ হয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর বনানীতে পিআরআইয়ের কার্যালয়ে ‘অবৈধ সিগারেট ব্যবসা বন্ধ ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার।
অনলাইনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বজলুল হক খন্দকার বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সিগারেটের ওপর মোট করভার ছিল ৭৬ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৮৩ শতাংশ করা হয়। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল সিগারেটের ব্যবহার কমানো এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা। তবে বাস্তবে উচ্চ করের কারণে অবৈধভাবে দেশে আসা ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের ব্যবহার বেড়েছে।
চলমান একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৪ সালে দেশে অবৈধ সিগারেটের ভোগ ছিল প্রায় ৪০০ কোটি শলাকা। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ২০২৫ সালে ৭০০ কোটি শলাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি। এর ফলে সরকার প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে, যা মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ১ দশমিক ৪৭ শতাংশের সমান।
পিআরআইয়ের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে বৈধ ও রাজস্ব পরিশোধ করা সিগারেটের ভোগ ছিল ৭৪ দশমিক ৬০ বিলিয়ন শলাকা। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬১ বিলিয়ন শলাকায়। মোট ভোগের মধ্যে বৈধ সিগারেটের অংশ নেমে এসেছে ৭৭ দশমিক ৮৩ শতাংশে।
সংবাদ সম্মেলনে জাইদি সাত্তার বলেন, “সিগারেটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে অবৈধ কারবারও বাড়ে। তাই কর ও মূল্য যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। দাম কিছুটা সহনীয় হলে বৈধ বিক্রি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।”
তিনি অবৈধ সিগারেটের ব্যবসা রোধে কঠোর নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং শাস্তি কার্যকরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


