রবিবার, মে ৩১, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেস্তন ক্যান্সারের লক্ষ লক্ষ রোগী হয়তো কেমোথেরাপি এড়াতে পারবেন, গবেষণা বলছে

স্তন ক্যান্সারের লক্ষ লক্ষ রোগী হয়তো কেমোথেরাপি এড়াতে পারবেন, গবেষণা বলছে

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত লাখো মানুষ নিরাপদে কেমোথেরাপি এড়াতে পারেন, কারণ বিজ্ঞানীরা এমন একটি ডিএনএ পরীক্ষা উদ্ভাবন করেছেন যা নির্ধারণ করতে পারে কোন রোগীরা এই চিকিৎসা থেকে উপকৃত হবেন এবং কারা হবেন না, একটি গবেষণার ফলাফলে এমনটাই বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এই গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষকে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করে শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

কেমোথেরাপির কারণে ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, চুল পড়ে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া এবং প্রজনন সম্পর্কিত সমস্যা হতে পারে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল)–এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং থাইল্যান্ডের ৪০ বছরের বেশি বয়সী নতুন শনাক্ত হওয়া ৪,০০০–এর বেশি রোগী অংশ নেন।

বিজ্ঞানীরা ‘প্রোসিগনা’ নামে একটি জিন পরীক্ষা ব্যবহার করেন, যা স্তন ক্যানসারের বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত ৫০টি জিনের কার্যক্রম পরিমাপ করে এবং রোগীর পুনরায় রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ধারণ করে।

যাদের স্কোর কম ছিল—যারা মোট দলের দুই-তৃতীয়াংশ—তাদের কেমোথেরাপি দেওয়া হয়নি।

এই দলের পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩.৭%, যা কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ৯৪.৯% হারের কাছাকাছি।

স্তন ক্যানসারের প্রধান চিকিৎসা সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ। এরপর রোগটি ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে প্রায়ই কেমোথেরাপি পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রাথমিক স্তরের স্তন ক্যানসার যা কাছাকাছি লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়েছে, এমন রোগীদেরও নিয়মিত এই চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে স্তন ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরনটিতে এই চিকিৎসা খুব বেশি উপকার নাও দিতে পারে।

ইউসিএলের নতুন গবেষণার ফলে প্রতি বছর এনএইচএস–এর ৫,০০০–এর বেশি রোগী কেমোথেরাপি এড়াতে পারবেন।

কার্ডিফের ক্যারেন বনহ্যাম এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তিনি বলেন, ফলাফলটি “অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক” এবং “বড়দিনের মতো” অনুভূতি তৈরি করেছে।

৬৪ বছর বয়সী এই নারী প্রোসিগনা পরীক্ষার কারণে কেমোথেরাপি এড়াতে পেরেছেন এবং তার পরিবর্তে আট বছর ধরে রেডিওথেরাপি ও হরমোন থেরাপি নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ক্যানসার শনাক্ত হওয়া এবং চিকিৎসা নেওয়া ভীষণ ধাক্কা হতে পারে।”

“এটি আপনাকে অনিশ্চয়তার এক জগতে ছুড়ে দেয়। জীবনের অগ্রাধিকার বদলে যায়, আপনি কেবল বাঁচতে চান।”

এই গবেষণার ফলাফল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যানসার সম্মেলন-আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক সভায় উপস্থাপন করা হবে।

গবেষণা দলের প্রধান এবং ইউসিএল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্রেস্ট অনকোলজির অধ্যাপক প্রফেসর রব স্টেইন বলেন, “এই ফলাফল রোগীদের আলাদা আলাদাভাবে আরো সঠিকভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ হবে।”

“এই গবেষণায় কেবল প্রচলিত ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর না করে টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

“রোগীদের জন্য এর অর্থ হলো, অনেকেই কেমোথেরাপির শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং এর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

“স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এটি সম্পদের আরও দক্ষ এবং তথ্যভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে।”

ইউসিএল জানিয়েছে, এই ফলাফল ৪০ বছরের কম বয়সী মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা এখনও জানা যায়নি। সেটা জানতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়