প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ঠিক ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের জুলাই মাসে মুক্তি পেয়েছিল হোমি আদাজানিয়ার ‘ককটেল’। দীপিকা, ডায়ানা এবং সাইফের সেই গল্পটি বলিউডের রোমান্টিক ঘরানাকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। আজ ১৯ জুন, ২০২৬-এ এসে পরিচালক হোমি আদাজানিয়া নিয়ে এলেন এর স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল ‘ককটেল ২’। তবে এবার আর পুরনো ত্রিকোণ প্রেমের গল্প নয়, বরং আজকের জেনারেশন জেড এবং মিলেনিয়ালদের ‘সিচুয়েশনশিপ’, ওপেন রিলেশনশিপ এবং কমিটমেন্ট ফোবিয়ার মতো অত্যন্ত বোল্ড ও মডার্ন থিম নিয়ে হাজির হয়েছেন কৃতি, শহীদ ও রাশমিকা।
ট্রেইলারে কৃতির ‘অ্যালি’ চরিত্রটি দেখার পর অনেকেই ২০১২ সালের দীপিকা পাড়ুকোনের বিখ্যাত চরিত্র ‘ভেরোনিকা’-র মিল খুঁজে পাচ্ছেন। অ্যালি প্রচণ্ড কেয়ারফ্রি, ফ্লার্ট করতে ভালোবাসে এবং বাঁধনহারা। অন্যদিকে রাশমিকার চরিত্রটি অনেক বেশি শান্ত ও সংবেদনশীল। শহীদ কাপুরের ‘কুনাল’ চরিত্রটি এই দুই বিপরীতমুখী নারীর মাঝে পড়ে যেভাবে খাবি খাচ্ছে, তা একাধারে যেমন কমিক সিচুয়েশন তৈরি করেছে, তেমনই মন ভাঙার এক বাস্তব যন্ত্রণাকেও পর্দায় এনেছে।
ছবির সংলাপ এবং চিত্রনাট্যে লাভ রঞ্জনের ছোঁয়া থাকায় এতে আজকের যুগের তরুণ-তরুণীদের সম্পর্কের জটিলতাগুলো খুব চটুল ও বাস্তবসম্মত ডায়ালগের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রীতমের মিউজিক। সুফি ও ক্লাবি বিটসের মিশ্রণে তৈরি গানগুলো ইতিমধ্যেই চার্টবাস্টার। দিল্লির প্রেস কনফারেন্সে কৃতি স্পষ্ট করেছেন, ‘এটি কেবল একটি সিলি রোম-কম নয়। হাসাহাসি এবং ট্রাভেলের আড়ালে আজকের যুগের তরুণদের একাকীত্ব এবং সম্পর্কের স্থায়িত্বের অভাবকে খুব সুন্দরভাবে অ্যাড্রেস করা হয়েছে।’
হোমি আদাজানিয়া সবসময়ই সম্পর্কের ধূসর দিকগুলো পর্দায় দেখাতে ভালোবাসেন। ২০১২-এর ককটেল ছবিটি বক্স অফিসে ম্যাসিভ হিট হওয়ার পাশাপাশি কাল্ট ক্লাসিকের তকমা পেয়েছিল। ২০২৬-এর এই নতুন কাস্ট সেই লিগ্যাসি ধরে রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আজকের ওয়ান-নাইট স্ট্যান্ড, ডেটিং অ্যাপস এবং জটিল সম্পর্কের গোলকধাঁধায় যারা নিজেদের উত্তর খুঁজছেন, কৃতি স্যাননের মতে ‘ককটেল ২’ তাদের জন্য একটি পারফেক্ট রিয়েলিটি চেক হতে চলেছে। সিনেমাটির ক্লাইম্যাক্সের সেই ‘রুটেড মেসেজ’ দর্শকদের কতটা স্পর্শ করে, তা উইকেন্ডের বক্স অফিস কালেকশনই প্রমাণ করবে।


