Sunday, June 21, 2026
spot_img
Homeমুল পাতামানসিক চাপে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে? বিব্রতকর পরিস্থিতি সামাল দিতে যা করবেন

মানসিক চাপে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে? বিব্রতকর পরিস্থিতি সামাল দিতে যা করবেন

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

এখন যে আবহাওয়া, তাতে কমবেশি সবারই ঘাম হচ্ছে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যাঁরা মানসিক চাপে থাকেন, তাঁরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘামেন। তার ওপর সেই ঘামের দুর্গন্ধ হয় তীব্র। মানসিক চাপে ঘামের গন্ধ কেন তীব্র হয় এবং কীভাবে এটি সামলানো যায়, জেনে নিন এখান থেকে।

মানসিক চাপে অতিরিক্ত ঘাম কেন হয়
মানসিক চাপ হলো কোনো সম্ভাব্য হুমকির প্রতি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এই প্রতিক্রিয়ার জন্য অ্যাড্রেনালিন, কর্টিসল এবং অন্যান্য স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ ঘটে। এসব হরমোন হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় এবং মানসিক চাপের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করতে শরীরের পেশিগুলোকে শক্ত করে তোলে।

সাধারণত শরীর ঠান্ডা রাখতে, শরীরের ইলেকট্রোলাইট ও তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ত্বক আর্দ্র রাখতে ঘাম নিঃসরণ হয়। যখন কেউ মানসিক চাপ অনুভব করেন, তখন শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা ঘর্মগ্রন্থিগুলোকে সক্রিয় করে তোলে। মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে বেশি ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত ঘাম যা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে বা জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়, তা হাইপারহাইড্রোসিসের মতো শারীরিক অবস্থার কারণেও হতে পারে।

মানসিক চাপের কারণে হওয়া ঘামের গন্ধ ভিন্ন হয় যে কারণে
আমাদের শরীরে ২ থেকে ৪ মিলিয়ন ঘর্মগ্রন্থি রয়েছে, যার বেশির ভাগই একক্রাইন গ্রন্থি। এসব গ্রন্থি শরীরের বেশির ভাগ অংশজুড়ে থাকে। তবে এগুলোর সংখ্যা হাতের তালু, পায়ের পাতা, কপাল ও বগলে বেশি।

মানসিক চাপ থেকে হওয়া ঘাম দূর করতে অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বকে ঘাম নিঃসরণের পরিমাণ কমে যাবে। ছবি: পেক্সেলস
মানসিক চাপ থেকে হওয়া ঘাম দূর করতে অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বকে ঘাম নিঃসরণের পরিমাণ কমে যাবে। ছবি: পেক্সেলস
শারীরিক কার্যকলাপ বা গরম পরিবেশের কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে স্নায়ুতন্ত্র একক্রাইন গ্রন্থিগুলোকে ঘাম নিঃসরণ করার সংকেত দেয়। এই ঘাম প্রধানত পানি দিয়ে তৈরি, যার সঙ্গে অল্প পরিমাণে লবণ ও লিপিড মিশ্রিত থাকে। ঘাম ত্বক শীতল করে এবং শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া আমাদের শরীরে রয়েছে আরেকটি ঘর্মগ্রন্থি—অ্যাপোক্রাইন। এই গ্রন্থি আকারে বড় এবং মানসিক চাপের কারণে সৃষ্ট ঘামের বেশির ভাগই এগুলো থেকে উৎপন্ন হয়। অ্যাপোক্রাইন শরীরের সেই সব অংশে পাওয়া যায়, যেখানে রোমকূপের সংখ্যা বেশি, যেমন যৌনাঙ্গ ও বগল। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানসিক চাপে থাকলে আমাদের বগল থেকে প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঘাম নিঃসৃত হয়।

অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত ঘাম সাধারণত ঘন হয় এবং এতে প্রোটিন ও লিপিডের পরিমাণ বেশি থাকে। এই ধরনের ঘামে থাকা চর্বি এবং পুষ্টি উপাদান ত্বকে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি করে।

মানসিক চাপে হওয়া ঘাম যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়
মানসিক চাপ জীবনের একটি অনিবার্য অংশ এবং আপনি এটি পুরোপুরি এড়াতে পারবেন না। কিন্তু পরেরবার যখন আপনি চাপের কারণে ঘামতে শুরু করবেন, তখন কয়েকটি কাজ করতে পারেন।

অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করুন
অনেকে মনে করেন, ডিওডোরেন্ট এবং অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট একই জিনিস। কিন্তু আসলে এদের কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ডিওডোরেন্ট শুধু আপনার ঘামের গন্ধ অন্য একটি গন্ধ দিয়ে ঢেকে দেয়। অন্যদিকে, অ্যান্টিপার্সপিরেন্টে এমন উপাদান থাকে, যা সাময়িকভাবে আপনার ঘামের ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। ফলে আপনার ত্বকে ঘাম নিঃসরণের পরিমাণ কমে যায়। আপনি বিশুদ্ধ অ্যান্টিপার্সপিরেন্টের পাশাপাশি এমন পণ্যও কিনতে পারেন, যা ডিওডোরেন্ট ও অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট উভয়ের কাজ করে।

প্রতিদিন গোসল করুন
প্রতিদিন গোসল করলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ে না। ত্বকে নিঃসৃত ঘামের সংস্পর্শে আসার মতো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা যত কম থাকবে, শরীর থেকে দুর্গন্ধও তত কম উৎপন্ন হবে। গোসলের পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে নিতে ভুলবেন না। কারণ, উষ্ণ ও ভেজা ত্বক ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করে।

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার কৌশলদীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার কৌশল
অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ করুন
বগল ও শরীরের যেসব অংশে অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন হয়, সেসব অংশের অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ করুন। অতিরিক্ত লোম ঘাম, তেল এবং ব্যাকটেরিয়া আটকে রাখতে পারে। এই জায়গাগুলোর লোম অপসারণ করে ফেললে তা শুধু দুর্গন্ধ তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণই কমাবে না, বরং আপনার অ্যান্টিপার্সপিরেন্টের কাজ করা সহজ করে তুলবে।

‘স্ট্রেস সোয়েট’ প্রতিরোধের উপায়

মানসিক চাপের কারণে হওয়া ঘাম থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। এটা বলা সহজ হলেও করা সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে কিছু কৌশল আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যে মুহূর্তে আপনি উত্তেজনা অনুভব করতে শুরু করবেন, সেই মুহূর্তে একটি গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। গবেষণা অনুসারে, ডায়াফ্রাম্যাটিক শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো কৌশল দ্রুত মানসিক চাপ কমাতে এবং আরাম ও প্রশান্তি আনতে পারে। এই কৌশলে একটি দীর্ঘ ও ধীর শ্বাস নিতে হয় এবং শ্বাস নেওয়ার সময় ডায়াফ্রামকে পেটের দিকে প্রসারিত হতে দিতে হয়। তারপর প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করার আগে সম্পূর্ণভাবে শ্বাস ছাড়তে হয়।

গান মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে। মানসিক চাপ কমলে ঘামও কম হবে। ছবি: পেক্সেলস
গান মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে। মানসিক চাপ কমলে ঘামও কম হবে। ছবি: পেক্সেলস
এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, গান আরাম পেতে এবং মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে। সম্ভব হলে হেডফোন লাগিয়ে নিন এবং মানসিক চাপের আগে বা সেই সময়ে আপনার পছন্দের কয়েক মিনিটের গান শুনুন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কারও সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিলে মানসিক চাপ কমে; বিশেষ করে যদি সেই ব্যক্তি আবেগগতভাবে আপনার মতোই হন। আপনার মানসিক চাপ বাড়তে থাকলে কোনো বন্ধু বা প্রিয়জনকে ফোন করুন অথবা এমন কোনো সহকর্মীর সঙ্গে সহানুভূতি প্রকাশ করুন, যিনি হয়তো একই রকম অনুভব করছেন।

সূত্র: হেলথ লাইন ও অন্যান্য

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়