প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
৬০ বছর পর নতুন দুই সরকারি স্কুল পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম নগরী। আগামী বছর থেকেই পতেঙ্গা এলাকায় স্থাপিত সর্বাধুনিক অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধাসহ এই দুই স্কুলে পাঠদান শুরু হবে। এরই মধ্যে স্কুল ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। চলছে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পদ সৃষ্টির কাজও। প্রতিটি ১০ তলা ভবনের স্কুলে একসঙ্গে প্রায় ১২শ থেকে ১৪শ শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করতে পারবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদন পায় নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প। ৪৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অধীনে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় শহরে দুটি করে, ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে ও জয়পুরহাটে একটি করে এবং সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। এসব বিদ্যালয়ে থাকবে আধুনিক ভৌত অবকাঠামো সুবিধা ও যুগোপযোগী শিক্ষা সামগ্রী।
এই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাস্টার দা সূর্য সেন সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ হচ্ছে উত্তর পতেঙ্গার বিজয় নগর এলাকায়। প্রায় দুই একর ভূমির উপর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ হচ্ছে পূর্ব পতেঙ্গার স্টিল মিল এলাকায়। প্রায় এক একর ভূমির উপর নির্মাণাধীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি ৬০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। দুই ভবনের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। বাকি কাজ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক শাখা) এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরী বলেন, এই দুই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পদ সৃষ্টি করার কাজ চলমান রয়েছে। আপাতত ডেপুটেশনে দুইজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি ডিসেম্বরের আগেই শিক্ষক নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, আপাতত ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হবে এবং প্রতিটি শ্রেণিতে একটি করে সেকশন থাকবে। পরবর্তীতে শিক্ষক নিয়োগ হলে সেকশন বাড়ানো হবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলাম বলেন, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ফিনিশিংসহ ভিতরের কাজ চলছে। আসবাবপত্র ও লিফটও চলে এসেছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি।


