প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম। চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
এতে নগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা, পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, পাহাড়ধসের ঝুঁকিসহ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করা হয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা কেন্দ্র।
নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
টানা বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, চকবাজার, বাদুরতলা, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মৌলভীপুকুরপাড়, সিডিএ আবাসিক এলাকা, দুই নম্বর গেট, হালিশহরের কে ও এল ব্লক, রামপুর, বাটালি রোড এবং সিঅ্যান্ডবি এলাকাসহ নগরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও ফেনীর নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করছে।
নিম্নচাপজনিত বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


